করোনার মধ্যেও ঘুরে দাড়িয়েছে দেশের রপ্তানিখাত

প্রায় ৬ মাস ধরে করোনা মহামারির সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই করছে বিশ্ব। বাংলাদেশের জনগণকেও একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারির বিপদ। এতে বেড়েছে অর্থনৈতিক সংকট। বদলেছে মানুষের জীবনাচরণ, কমেছে অর্থনৈতিক প্রবাহ।

তবে এর মধ্যেও আশাতীতভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। মহামারির ধাক্কা সামাল দিতে পারেনি গত এপ্রিল, মে ও জুন মাসে। তবে জুলাইতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আগস্টে এসে সফলভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। গত আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আলোচিত মাসে রপ্তানি হয়েছে ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে ৬৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে ৬৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অর্থনীতিবিদরা করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৩টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, বৈষম্য হ্রাস ও সামাজিক গতিশীলতা বাড়াতে অর্থনৈতিক নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস চিহ্নিত করা এবং তৃতীয়ত অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে নতুন লক্ষ্যের ওপর মনোযোগ দেয়া। সে কারণেই নতুন লক্ষ্যে মনোযোগী হতে বিশ্বের অনেক দেশই এখন ‘নিউ নরমাল লাইফে’ যাত্রা শুরু করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ ‘নিউ নরমাল লাইফে’ বাংলাদেশের মানুষ অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি।

মার্কেট, শপিং মল কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনো তেমন গতি আসেনি। তবে চলা শুরু করতে হয়েছে। কারণ করোনা মহামারির ভয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ঘরবন্দি হয়ে থাকবে-তার কোনো উপায় নেই। এর মাঝেই দেশের রপ্তানি খাতে সুবাতাস বইতে শুরু করায় দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূলত কোভিড-১৯ এর প্রভাব শুরু হওয়ার আগে থেকেই আমাদের রপ্তানি আয়ে খারাপ পরিস্থিতি ছিল। প্রতি মাসেই প্রবৃদ্ধি কমছিল। মহামারি না আসলেও গত অর্থবছরে আমাদের রপ্তানিতে ৮-৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। করোনা পরিস্থিতির ধাক্কায় সেটা ১৭ শতাংশ হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতিই সচল হচ্ছে। আমাদেরও সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই পথেই এগোতে হবে। তাহলে আমরা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

দেশে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। করোনার কারণে গত মার্চ থেকে এ খাতের রপ্তানি কমতে শুরু করে, এপ্রিলে পোশাক রপ্তানিতে ভয়াবহ ধস নামে। মে মাসেও তা অব্যাহত থাকে। তবে জুন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ধারাবাহিকতা জুলাই ও আগস্টেও অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন: আলাদা ট্রেন আসছে ফেনী-চট্টগ্রাম রুটে

ইপিবির তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ যে আয় করেছে, গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়েও একই আয় করেছিল। তবে পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ১৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের। কিন্তু পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়লেও সরকারি পাটকলগুলো ১ জুলাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাটের মতো কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ১৭ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে ১৫ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম। গত বছরের জুলাই-আগস্টে সাড়ে ১৮ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

সূত্র: ভোরের কাগজ

চস/স

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 40 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।