ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান মেয়রের

নগরীতে ডেঙ্গু রোগীরসংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পাশাপাশি বাড়ছে আতংক। এনিয়ে গতকাল (রবিবার) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, চট্টগ্রামে ২৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তম্মধ্যে অর্ধেক ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এসেছে। বাকিগুলো ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। চসিকের সম্মেলন কক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের

সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দীন আহমেদ, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন ডেঙ্গু রোগ মোকাবেলায় স্ব স্ব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকা- তুলে ধরেন। আতঙ্কিত না হয়ে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মশা মারতে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডজুড়ে লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চসিক জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু টেস্ট করানো হচ্ছে। ক্রাশ প্রোগ্রাম জোরদার করতে আরও ফগার মেশিন ও ওষুধ কেনা হচ্ছে। ভারতীয় ওষুধ সংগ্রহ করে এনে নগরে ছিটানো হচ্ছে। ঢাকার আর চট্টগ্রামের ছিটানো ওষুধ এক নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চসিকের ওষুধ শতভাগ কার্যকর। মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর ডেঙ্গু রোগের এই সংকট মোকাবেলায় একযোগে কাজ করছে। মাইন্ড সেট পরিবর্তন করে সচেতন হতে হবে। বাসা-বাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ বলেন, সচেতনতার অভাবে এডিস মশার উৎপত্তি। এ মশা থেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মশাই ডেঙ্গুু রোগের প্রধান কারণ। জ¦র হলেই যে ডেঙ্গু হয়েছে তা ভাবা ঠিক নয়। জ¦রকম পক্ষে ৩ দিন হলেই ডেঙ্গু টেস্ট করা প্রয়োজন। সব ডেঙ্গু ভয়াবহ নয়। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে যেসব ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে, তার ৫০ শতাংশ রোগী চট্টগ্রামে আক্রান্ত হয়েছে এবং বাকিগুলো ঢাকা থেকে ফিরেই হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য চমেক হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। জ¦র হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ওষুধ না খাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
চমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্ট করাতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানি করা হচ্ছে, মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবুর এমন অভিযোগের বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা হাসপাতাল খোলা রয়েছে। চমেক হাসপাতালে শিডিউলভিত্তিক চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কিটস সংকটের কারণে যেসব রোগীরজ¦র ৩ থেকে ৫ দিন হয়েছে, তাদেরকেই ডেঙ্গু টেস্ট করানো হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। ১ হাজার জ্বরের রোগীর মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মাত্র ২ জন। সিবিসি পরীক্ষার মাধ্যমেও নিশ্চিত হওয়া যায়। ডেঙ্গু নিয়ে হা-হুতাশের দরকার নেই। মানুষের মন যাতে না ভাঙে। আমরা পোলিওমুক্ত দেশ গড়েছি, ডেঙ্গু মুক্তও করবো। চমেক হাসপাতালে এখনো কোনো ডেঙ্গু রোগী মারা যায়নি। আগাম বর্ষার কারণে এবার পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন বলেন, সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মসজিদে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। মসজিদে মসজিদে সচেতনতামূলক বয়ান দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের সময়োপযোগী সচেতন হতে হবে।

 

চস/আজহার

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 74 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *