করোনাভাইরাস রোগীরা সেবা পাবে চার হাসপাতালে: মেয়র নাছির

করোনাভাইরাস রোগীদের নগরের চারটি হাসপাতালে সেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি নিয়ে সিটি মেয়র তাঁর নিজস্ব কক্ষে জরুরি যৌথ সভা করেন। এরপর তিনি চসিক সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এসময় মেয়র বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। সেই কমিটিতে সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম বিভাগ পরিচালক (স্বাস্থ্য) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন, জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক (সিটি করপোরশন এলাকা), বিভাগীয় প্রাথমিক-মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।

কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে-করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়ন, সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনে কোয়ারেনটাইনসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ জাতীয় কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করা।

নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র নাছির বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য। আমরা জোর দিচ্ছি সচেতনতার উপর। সরকার বারে বারে কোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ করছেন। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে এসেছে তারা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ করছি।

আরো পড়ুন: করোনা মোকাবেলায় পতেঙ্গায় সবধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ

তিনি আরো বলেন, চীনের উহানে যখন করোনাভাইরাস দেখা যায়। তার তিনদিন পর থেকে সিটি করপোরেশনের পক্ষে থেকে পত্রিকার মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করা হয়। আরো সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে কিভাবে থাকবে তা পত্রিকায় ও লিফলেট আকারে প্রচার করা হবে। করোনাভাইরাস রোগীর জন্য নগরে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হাসপাতালগুলো হচ্ছে-১০০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ৫০ শয্যার ফৌজদারহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রেলওয়ে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালও ব্যবহার করা যাবে।

এসময় চট্টগ্রাম বিভাগ পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইরত অবস্থায় ৯১জন আছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে ৫শ’৬৭ জন আসছে। এরমধ্যে ১শ’ ৫৬জন ওমরা হজ্ব থেকে আসছে। তাদেরকে দীর্ঘসময় রেখে পারসন টু পারসন হিসট্রি নিয়েছি। তাদের মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা নিয়েছি। খবু সতর্কতার সঙ্গে হোম আইসোলেশনে পাঠিয়েছি। যারা হোম আইসোলেশনে যাচ্ছে তারা দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ শহরে থাকছে আবার কেউ গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছে। যারা গ্রামে যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ এবং চেয়ারম্যানদেরকে জানানো হচ্ছে। নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত থানাকে জানানো হচ্ছে। বিষয়টি তারা যেন পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছে তাদেরকে প্রথমে বুঝানো হবে। এরপরও যদি তারা না শুনে তাদের বিরুদ্ধে মহামারি আইনঅনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাস রোগী পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মেডিকল কলেজ (চমেক)ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার হুমায়ুন বলেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবপ্রকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চমেকের আউটডোরে ব্যানার দিয়েছি। যেসব রোগীর হাঁচি-কাশি, জ্বর-গলা ব্যথা সমস্যা আছে তাদেরকে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানোর জন্য বলেছি। সেসব রোগীর জন্য প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

তাদের স্বাভাবিক সমস্যা নাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পরীক্ষা করা পর সিন্ধান্ত গ্রহণ করবেন ডাক্তাররা। যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইইডিসিআরকে জানানো হবে। এরপর করোনাভাইরাসের জন্য যেসব হাসপাতাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেখানে পাঠানো হবে।

চস/আজহার

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 165 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।

One thought on “করোনাভাইরাস রোগীরা সেবা পাবে চার হাসপাতালে: মেয়র নাছির

Comments are closed.