মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আল্লামা শফী

62
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আল্লামা শফী
জানাজা শেষে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার বেলা ২টার দিকে মাদ্রাসার মাঠ, আশপাশে সড়ক ও ভবনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম এ জানাজায় প্রায় চার লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানাজায় ইমামতি করেন আল্লামা শফীর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউছুপ। জানাজা শেষে প্রবীণ এই আলেমকে মাদ্রাসার মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থান সংকুলান না হাওয়ায় চট্টগ্রাম-নাজিরহাট ও হাটহাজারী-রাউজান মহাসড়ক স্থানীয় ডাক বাংলা সড়ক, হাটহাজারী রেল স্টেশন সড়ক, ফটিকা কামাল পাড়া, কাচাড়ী সড়ক, মাদ্রাসা সংলগ্ন হাতিনার দিঘি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠেও মুসল্লিরা জানাজায় দাঁড়িয়ে পড়েন।

জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা অংশগ্রহণ করেন সাবেক মন্ত্রী ও হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশে মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি ও মাওলানা মোহাম্মদ জুনায়েদ।

বেলা ২টা ১১ মিনিটে জানাজা শেষ হলে হাজার হাজার মুসল্লিকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে হয়েছে। মুসল্লিদের ঢলের কারণে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে পড়ে।

এর আগে সকালে লাশবাহী গাড়ি মাদ্রাসায় পৌঁছানোর আগে মাদ্রাসার সামনে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কায় দক্ষিণে হাটহাজারী বাস স্টেশন ও উত্তরে হাটহাজারী মেডিকেল গেইট এলাকা এবং হাটহাজারী-রাউজান মহাসড়কের কলেজ গেইট এলাকায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের যাতে কোনো রকমের সমস্যা না হয় সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, চার প্লাটুন বিজিবি এবং হাটহাজারীতে স্থাপিত র‌্যাব কার্যালয়ের দায়িত্বশীলেরা এবং মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন।

সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে আল্লামা শফীর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিশাল গাড়িবহরসহ হাটহাজারীতে পৌঁছায়।

তবে ফজরের নামাজের পর থেকেই ফটিকছড়ি-রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থেকে হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের ঢল বাড়তে থাকে। ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার পক্ষ থেকে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়।

আরো পড়ুন: পাণ্ডিত্য-নাস্তিক ইস্যু আল্লামা শফীকে কওমী ধারার নেতায় পরিণত করেছিল

জানাজায় আসা মুসল্লিদের পানির পিপাসা মেটাতে বিভিন্ন সংগঠন স্বেচ্ছায় পানি খাওয়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অনেককে মুসল্লিদের মাঝে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে আল্লামা শফী ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা ছাড়াও ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

চস/স