প্রথম ডেঙ্গু প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য কোনও চিকিৎসা এখনও পর্যন্ত নেই। ছিল না কোনও ভ্যাকসিনও। তবে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। গত মে মাসের ১ তারিখ ডেংভেক্সিয়া নামের এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ভ্যাকসিনটি গত মে মাসের ১ তারিখে অনুমোদন দেওয়া হলেও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই তাদের ফেসবুকে নিউজটি শেয়ার করছেন। সম্প্রতি শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ, ভিয়তনাম, চীন, সিঙ্গাপুর সহ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। আর সেই প্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুমোদনপ্রাপ্ত ভ্যাকসিনটি ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসই প্রতিরোধ করবে।

বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু হলো সবচেয়ে প্রচলিত মশাবাহিত একটি ভাইরাল রোগ। গত কয়েক দশকে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে।

এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডেপুটি কমিশনার আন্না আব্রাহাম বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। ডেঙ্গু রোগের কোনও প্রতিকার ছিল না। ফলে নতুন এই ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু অঞ্চলের মানুষের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের হিসাব বলছে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মানুষরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। ডেঙ্গু ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে শুরুতেই বোঝা যায় না। যে কারণে অনেকেই এটাকে সাধারণ জ্বর বা ভাইরাস জ্বর ভেবে থাকেন।

এ কারণে পরবর্তীতে ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং রোগী মারাও যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ হতে পারে- পেট ব্যথা, বমি বা বমিভাব, রক্তপাত, শ্বাস-প্রশ্বাসে জটিলতা ইত্যাদি।

এই রোগে হাসপাতালে নেওয়া রোগীদের শতকরা ৯৫ ভাগই দ্বিতীয় ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত থাকেন। ডেঙ্গুর এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্র বলছে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৫ লাখ রোগী মারাত্মক অবস্থায় চলে যান এবং ২০ হাজার মারা যান।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে। আমেরিকান স্যামোয়া, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম, ইউএস ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডস, ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি অঞ্চলে ডেঙ্গু দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বায়োলজিক্স ইভালুয়েশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক পিটার মার্কস বলেন, এক টাইপের ডেঙ্গুতে কেউ আক্রান্ত হলে ওই নির্দিষ্ট টাইপটির বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু একই রোগী যদি ওই টাইপের পর বাকি তিনটির যেকোনও একটি টাইপে আক্রান্ত হন তাহলে তার অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়। এমনকি তখন তার মৃত্যুও হতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন ভ্যাকসিনটি মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি কমাবে।

মোট ৩৫ হাজার রোগীর ওপর ডেঙ্গু প্রতিরোধী ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডেংভেক্সিয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত যারা ডেংভেক্সিয়া গ্রহণ করেছে তাদের মাথা ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, ক্লান্তি কিংবা সামান্য জ্বরের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই ভ্যাকসিনটি শুধু তাদের জন্যই যারা এরই মধ্যে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ যারা এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি তারা ভ্যাক্সিনটি গ্রহণ করতে পারবেন না। এটি মূলত তৈরি করা হয়েছে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ভয়াবহতা প্রতিরোধের জন্য।

এ কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা একজন রোগীর অতীত ইতিহাস ভালো করে পর্যবেক্ষণের পর এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে বলেন। তা না হলে এটি তেমন কোনও কাজে আসবে না। কোনও রোগী আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল কিনা সেটা ওই রোগী নিজে নিশ্চিত করতে না পারলে অন্য কোনও উপায়ে তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কোনওভাবেই নিশ্চিত হওয়া না গেলে তাকে ভ্যাকসিন দেয়া যাবে না।

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ডেংভেক্সিয়া তিনটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম ইনজেকশনটি দেওয়ার পর দ্বিতীয়টি ৬ মাস পর এবং তৃতীয়টি ১ বছর পর দিতে হয়।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

চস/আজহার

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 81 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *