চিকিৎসাশাস্ত্রে রসুন

রসুন কেবল একটি মসলাই নয়, এর একাধিক ওষুধিগুণ রয়েছে, এ কথা কম বেশি সবারই জানা। আয়ুর্বেদ ও হেকিমিশাস্ত্রে অনেক আগে থেকেই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ছাড়াও রসুনে জীবাণু ও কীটনাশক গুণও রয়েছে। মূলত মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রসুনের পুষ্টিমূল্যও কম নয়। উচ্চ রক্তচাপে রসুন খুবই উপকারী এ কথা গবেষণায় প্রমাণ করেছেন জার্মান চিকিৎসকেরা। রক্তে কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে রসুনের ভূমিকা কার্যকরী। সেজন্য তারা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রসুন খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাতের ব্যথায় বা কোনো আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে সরিষার তেলে রসুন গরম করে ম্যাসাজ করলে ব্যথা লাঘব হয়। দাঁতের ব্যথায় রসুন ব্যবহারে ব্যথা কমে যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রসুনের গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যে, রসুনের রোগ প্রতিরোধ ও রোগ নিরাময় দুটো গুণই রয়েছে। সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, রসুন একাধারে ভাইরাসরোধী, ছত্রাকরোধী এবং ব্যাকটেরিয়ারোধী পেনিসিলিনের মতো জীবাণুনাশক।

ইকোলাই এবং টাইফয়েড জীবাণু ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা রাখে রসুন। রসুন খেলে অন্ত্রে পাচক রস নিঃসরণ বেশি হয় যা হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। আমাশয় রোগে রসুন খেলে অন্ত্রের জীবাণু ধ্বংস হয়ে পেটের সমস্যা নিরাময় হয়। চামড়ায় আক্রান্ত ক্ষতস্থানে কাঁচা রসুনের রস ব্যবহার করলে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়ে দ্রুত নিরাময় করে। পুরনো কাশি বা ব্রঙ্কাইটিসে নিয়মিতভাবে কাঁচা রসুন খেলে শ্বাসতন্ত্রে জমে থাকা কফ বের করে দিয়ে দ্রুত আরোগ্য করে। যারা নিয়মিত রসুন খান তাদের খাবারে রুচি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসূতি মাদের নিয়মিত রসুন খাওয়ার ফলে শিশুর দুধপান করার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় দুধপান করে থাকে। পায়ের তলায় কড়া নিরাময়ে রসুনের আছে অসাধারণ ক্ষমতা। কাঁচা রসুনের কোয়া কুচি করে কড়ার ওপর বসিয়ে আটকে দিলে এক সপ্তাহ পর দেখা যাবে কড়া অনেকটা নরম হয় ও ব্যথা লাঘব হয়।

রসুনের গুণের শেষ নেই। প্রতিদিন কয়েক কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন, কাঁচা খেলেই ভালো। অগোচরে অনেক শারীরিক সমস্যা এমনি সেরে যাবে।

চস/আজহার

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 81 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *