এবার করোনা পরীক্ষা হবে যক্ষ্মা শনাক্তের মেশিনে

70

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে এখনো সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে একদিনের। কারণ পরীক্ষা হওয়া পিসিআর মেশিনে একটি নমুনার ফলাফল জানতে সময় নেয় তিন ঘণ্টার অধিক। তাও কর্মসম্পন্ন হতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লেগে থাকে।

পরীক্ষার এমন জটিলতা নিরসনে আশার খবর দিয়েছে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ। এখন থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটেই জানা যাবে করোনা পরীক্ষার ফলাফল। তাও যক্ষ্মা শনাক্তের জিন এক্সপার্ট মেশিনে এ পরীক্ষা করা যাবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চালু করা হয়েছে যক্ষ্মা শনাক্তের জিন এক্সপার্ট মেশিনটি। যা চট্টগ্রামের সর্বপ্রথম মেশিন এটি। গত শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের ছাড়পত্রে দেশে এমন পদ্ধতিতে পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পদ্ধতিতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে তা। তবে এ কার্যক্রম শুরু হলেও মেশিনের উপযোগী রি-এজেন্ট বা কার্টিজ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান না হলে এমন সুযোগ অধরাই থেকে যাবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জিন এক্সপার্ট মেশিনের প্রতিটি রি-এজেন্ট বা কার্টিজে সর্বোচ্চ দশটি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। যা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যায়। তবে দেশে রি-এজেন্ট বা কার্টিজ আমদানির স্বল্পতা থাকায় পরীক্ষার সংখ্যা নিয়েও নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। তাই এ মেশিনটিতে শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তিরত গুরুত্বপূর্ণ বা সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তিরত গুরুত্বপূর্ণ রোগী যারা বিশেষ করে জরুরি অপারেশন ও ক্রিটিক্যাল যে রোগীরা আছে তাদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যেহেতু একটিতে প্রতিদিন মাত্র দশটি পরীক্ষা করা হবে। তাই আপাতত এমনভাবেই চালানো হবে। তবে রিএজেন্ট বা কার্টিজের চাহিদা বাড়লে তা পরবর্তীতে পরিমাণও বাড়ানো হবে।’

ল্যাব সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জিন এক্সপার্ট মেশিনটি এক ধরনের রিয়েল টাইম পিসিআরের মতো। তবে এটার পদ্ধতি সাধারণ এবং আরটি পিসিআর থেকে অনেকটাই ভিন্ন। তা কার্টিজের মাধ্যমে পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে। সাধারণত পিসিআর মেশিনে নমুনা প্রক্রিয়াকরণ করতে প্রায় এক ঘণ্টার সময় প্রয়োজন হলেও জিন এক্সপার্ট মেশিনে লাগে মাত্র ৫ মিনিট। আর ফলাফল পাওয়া যায় মাত্র ৪৫ মিনিটেই।

এদিকে, এমন আরও কিছু মেশিন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা ল্যাবে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বকোণকে বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে আগ থেকেই এ মেশিনটি ছিল। তাই সেখানেই কার্যক্রমটি প্রথম চালু করা হয়েছে। যেহেতু এ মেশিনে সহজেই ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে, তাই বিআইটিআইডিতে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে অন্যগুলোতেও এ কার্যক্রম চালু করা হবে।’

চস/আজহার