‘অলস তরুণেরাই আসল হিরো’

27

আলস্য এখন প্রশংসার বিষয়ও বটে! অন্তত এই করোনাকালে। সম্প্রতি জার্মান সরকারের এক বিজ্ঞাপনে তরুণদের উদ্দেশে বলা হলো সেই কথা। সেখানে দেখা যায়, বাসায় থাকা ‘অলস’ মানুষেরাই ‘আসল হিরো’।

শনিবার প্রকাশ হওয়ার পর জার্মান সরকারের বিজ্ঞাপনটি অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়। বিজ্ঞাপনের বিষয় ‘করোনাকালীন দিনগুলোর আসল হিরো’৷ ইংরেজিতে যাদের বলে ‘কাউচ পটেটো’ বা সোফা থেকে উঠতে না চাওয়া অলস ব্যক্তি, সেই কাউচ পটেটোদেরকে বিশেষ হিরোর মর্যাদা দিচ্ছে বিজ্ঞাপনটি৷

দেড় মিনিটের ভিডিও বিজ্ঞাপনটি শুরু হয় এক বৃদ্ধের ভাষ্যের মাধ্যমে, যেখানে তিনি তার ফেলে আসা যৌবনের একটি বিশেষ বছরকে ২০২০ সালের সঙ্গে মিলিয়ে স্মরণ করেন।

তারুণ্যের উচ্ছল দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার তখন বাইশ বছর বয়স, সদ্য প্রকৌশলবিদ্যা পড়া শুরু করেছি। যে বয়সে আমাদের হেসে, খেলে, ঘুরে বেড়ানোর কথা ছিল, সেই বয়সে আমরা সম্মুখীন হই করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় দফার আঘাতের।”

এভাবে চমকে দিয়ে নাটকীয় আবহসংগীতের সঙ্গে চলে কল্পিত স্মৃতিচারণ, ‘‘আমাদের প্রজন্মের হাতেই তখন ছিল দেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। তাই দায়িত্ব বুঝে নিয়ে যা করা উচিত, আর আমরা সেটাই করলাম। আমরা লক্ষ্যে অনড় থেকেছি দিনরাত। এক জায়গা থেকে নড়িনি। কিছুই করিনি। বাসার সোফায় এক জায়গায় বসে আমরা প্রথম সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়ে গিয়েছি।”’

মজার বিজ্ঞাপনে হিরোর চরিত্রকে দেখা যায় একটি সোফার ওপরে চাদর মুড়ি দিয়ে ঠায় বসে থাকতে। ঠিক পাশেই দেখা যায় জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের পছন্দের সহজলভ্য খাবার পিৎজা।

বিজ্ঞাপনটির স্লোগান ‘লড়াইয়ের ময়দান যখন সোফা, তখন ধৈর্য্যই লড়াইয়ের অস্ত্র’ অনলাইনে আলোড়ন তুলেছে। ‘বাসায় থাকলেও হিরো হওয়া যায়’ উল্লেখ করে তরুণ প্রজন্মকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে সরকার।

বর্তমানে জার্মানি করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় দফার সঙ্গে লড়ছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটির কাছাকাছি।

চস/আজহার