বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত

123

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে ১২তম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইতালি থেকে শুরু করে বিশ্ব জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। নিউ ইয়র্কে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে। লন্ডনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। খবর সিএনএন, বিবিসি ও রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব জুড়ে বিক্ষোভ

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শনিবার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা বর্ণবাদ নিরসনের দাবি জানান। একই দাবিতে নর্থ ক্যারোলিনাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টের বাইরেও প্রতিবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু শহরে পুলিশের কিছু কাজ নিষিদ্ধ হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া, মিনেয়াপোলিস, সিয়াটলে পুলিশের ঘাড় ধরে কাত করে শাস্তি দেওয়া এবং ডেনভারে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল সিএনএনকে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যিকারের প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। তিনি সংবিধান থেকে দূরে সরে গেছেন। তাই তার পুনরায় নির্বাচিত হওয়া উচিত নয়। সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার, অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মিলের বিরোধিতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভ কবে থামবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে। অ্যাটর্নি জেনারেল এরই মধ্যে বিক্ষোভে বিদেশি শক্তি এবং চরমপন্থিদের সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বিশ্বে বিক্ষোভ

করোনা ভাইরাসের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে লন্ডনে পার্লামেন্ট ও মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই বিক্ষোভের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ইতালির রাজধানীর পিয়েজা ডোল পপেলোর সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার (কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান) বলে স্লোগান দেন। জার্মানির বার্লিন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নসহ কয়েকটি শহরে এবং কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

গত ২৫ মে মিনেসোটার মিনেয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা শাওভিন শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। সঙ্গে তার আরো তিন সহকর্মী যুক্ত ছিলেন। প্রতিবাদের মুখে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে দেশটিতে পুলিশের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশে সংস্কারের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে পুলিশ বাহিনীরও অনেকে সেই সংস্কারে সমর্থন দিয়েছেন। পুলিশের নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসে চলতি সপ্তাহে একটি বিল উঠতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

চস/আজহার