৭ দিনের রিমান্ডে এসআই আকবর

37

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হত্যায় মূল অভিযুক্ত এসআই (বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেম মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে শুনানি শেষে তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ড শুনানিকালে আকবরের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান বিচারক। এ সময় আকবর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি কোনো দোষ করিনি।

এর আগে সোমবার সিলেট জেলা পুলিশ রাত ৮টার দিকে আকবরকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। রাতেই পিবিআই তাদের কার্যালয়ে আকবরকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ বিষয়ে পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাকে আদালতে সাত দিনের রিমান্ডে চাই। আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ (৩৪)। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। পুলিশ বিষয়টিকে গণপিটুনি হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করলেও ভিডিও ফুটেজে তা প্রমাণ হয়নি।

রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী। মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।

রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর গা ঢাকা দেন এসআই আকবর। ঘটনার ২৮ দিন পর সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিলেট পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান জানান, পুলিশের একটি দল তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে।

তবে ভিন্ন একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশে গ্রেপ্তারের আদেশ জারি হওয়ার পর থেকে পালিয়ে বেড়ানো আকবর কৌশলে সিলেটের কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত পার হয়ে খাসিয়াদের মতো বেশভূষা ধরে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তবে তাকে স্থানীয়রা সন্দেহ করে আটক করে। এরপর তার হাত-পা বেঁধে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

চস/আজহার