রাজধানীতে দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

138
গলাকাটা
রাজধানীর খিলগাঁও থানার গোড়ান এলাকার একটি বাসা থেকে দুই শিশুর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই বাসা থেকে তাদের মাকে পাওয়া গেছে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায়।

আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোড়ানের ‘মোল্লা টাওয়ার’ নামে একটি ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু দুটির গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান।

স্বজনদের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। স্বজনদের ধারণা, দাম্পত্য কলহের কারণে দুই সন্তানকে হত্যার পর ওই নারী নিজে আত্মহত্যার চেষ্টায় গায়ে আগুন ধরিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন: ৯ মার্চ শিশু সায়মা হত্যার রায়

নিহত শিশু দুটি হল মেহজাবিন আলভী (১২) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (৭)। আলভী খিলগাঁও ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে, জান্নাত একই স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।

শিশুটির মা আখতারুন্নেসা পপিকে (৩৫) অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি। তার শরীরের ১৮ শতাংশের মতো পুড়ে গেছে।

ভবনটির অন্য আবাসিক বাসিন্দারা জানান, ওই বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন পপি। তার স্বামী মোজাম্মেল হক ব্যবসায়ী, তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে থাকেন।

পপির বাবা আবু তালেব ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার মেয়ে ও জামাতার মধ্যে কলহ ছিল। বিয়ের পর তারা নয় বছর একসঙ্গে থাকলেও কিছু দিন আগে আলাদা বাসা নিয়েছিলেন। জামাতা মোজাম্মেল প্রতি সপ্তাহে ঢাকা আসতেন, তবে গত সপ্তাহে আসেননি।’ স্বামীর সঙ্গে কলহ থেকেই পপি গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলেও ধারণা করছেন তিনি।

এদিকে পপির স্বামী মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমে জানান, প্রতি সপ্তাহে ঢাকার বাসায় আসলেও জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে এই সপ্তাহে ঢাকায় আসেননি। তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেসময়ও তিনি এমন কিছু আঁচ করতে পারেননি।

ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন আলামত সংগ্রহ করেছে। ওই ভবনে বাইরের লোকজনদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ওসি মশিউর জানিয়েছেন, ঘটনার সবকিছু বিবেচনা করেই তারা তদন্ত চালাবেন।

চস/সোহাগ