টাকা দিতে না পারায় লাশ হলো নববধূ

109

বিয়ের ছয় মাসও পার হয়নি, এরইমধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে লাশ হলেন লামিয়া লাইজু নামে এক নববধূ।

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার ঘোষগাঁও এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

লাইজুর বাবা আব্দুছ ছামাদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকে ১০ লাখ টাকার জন্য চাপ দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। গরুর খামার করবে, তাই টাকা দিতে হবে। আমি বলেছি, বাবা কিছুদিন আগে পাঁচ ভরি স্বর্ণ দিয়েছি। তোমাদের বিয়ের সময় চার লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন টাকা কোথায় পাব। কিছুদিন সময় দাও। টাকা দিতে না পারায় অত্যাচার করে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

লাইজুর বাবা ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর বাইলেনের এলাকার মুদি দোকানদার।

চলতি বছরের ১১ মার্চ ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও গ্রামের শাহাজ উদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান শরীফের সঙ্গে বিয়ে হয় ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর বাইলেনের মেয়ে লামিয়া লাইজুর। বিয়ের পর থেকে স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্বামীকে দিতেন লাইজু।

ধোবাউড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে ধোবাউড়া থানায় নিহত গৃহবধূ লাইজুর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে মামলা হয়েছে। লাইজুর শ্বশুর শাহাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে লাইজুর স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চস/আজহার