আওয়ামী লীগে বিদ্রোহীদের শাস্তি না হওয়ায় বাড়ছে দৌরাত্ম্য

172
আওয়ামী

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি আওয়ামী লীগ। আর এ কারণেই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কমছে না বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, অতীতের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাই তারা বারবার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন। অথচ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার কারণে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হলে এ ঝামেলা বারবার পোহাতে হতো না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। বিভাগওয়ারি বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকাও করা হয়েছিল সে সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সতর্ক করে ক্ষমা করা হয়েছিল তাদের। আর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়ে দলের মনোভাব নমনীয়। এদের মধ্যে ঢাকা-৭ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ীও হয়েছেন।

এছাড়া ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এদের মধ্যে নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দিন তরফদার, ঝিনাইদহ-২ আসনের তাহজীব আলম সিদ্দিকী, যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্য, ঢাকা-৭ আসনের হাজি মোহাম্মদ সেলিম, কুমিল্লা-৩ আসনের ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এবং কুমিল্লা-৪ আসনের রাজী মোহাম্মদ ফখরুল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। স্বপন ভট্টাচার্য বর্তমানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরো পড়ুন: চসিক নির্বাচন: অর্ধদিবস অফিস খোলা থাকবে

সূত্র জানায়, ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিএনপির পাশাপাশি মোকাবেলা করতে হবে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীকে। আর দফায় দফায় বৈঠক করেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে দাঁড়াতে রাজি করানো যাচ্ছে না। উল্টো দলের কাছে কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। এ দাবিতে সমর্থন না দিয়ে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে দলের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে এসব সতর্কতা সত্ত্বেও বিদ্রোহীদের টলানো যাচ্ছে না।

২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছি। আমি ছাড়াও আরো অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। নির্বাচনী প্রতীক পেয়েছি। আর নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়াব না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসানো যাচ্ছে না, কারণ বারবার বলা হচ্ছে যে অ্যাকশন নেয়া হবে, কিন্তু বাস্তবে কোনো অ্যাকশন নেয়া হয়নি। সবাইকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। ফলে এদের সাহস বেড়ে গেছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি বন্ধ হওয়াটা খুব জরুরি। এ কারণে প্রত্যেকটি সাবজেক্ট টু সাবজেক্ট পরীক্ষা করে দেখা উচিত যে কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর পেছনে কোন নেতার মদদ আছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে ওই নেতার বিরুদ্ধেও যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়, তাহলে এটা কমবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

চস/আজহার