জোটের সাথে আলোচনা ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সখ্যতা বাড়ায় ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে বিএনপির। আর নানা জটিলতার কারণে বিএনপি এখন একলা চলো নীতি বেছে নিয়েছে।

২০ দলকে একপাশে রেখে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করায় ওই জোটের ছোট ছোট দল মিলে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামে গড়ে তুলে নতুন প্ল্যাটফর্ম। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো নেতাদের নিয়ে গড়া এই জোটও অকার্যকর প্রমাণ হওয়ায় এখন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেও বনিবনা হচ্ছে না বিএনপির।

বিভিন্ন সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়াসহ অনেক সিদ্ধান্তই বিএনপি এখন নিচ্ছে জোট শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই। বিএনপি এবং তার দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তও বিএনপি নিয়েছে এককভাবে। অথচ এর আগে প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে জোটগত সিদ্ধান্ত নেয়া হতো।

দুই জোটের নেতারা বিএনপির সমালোচনা করে বলছেন, উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, সংসদে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, আবার সরকারকে অবৈধ বলবেন- এ ধরনের দ্বিচারিতার রাজনীতি বিএনপিকে আরো বেশি জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। যার মাশুল দিতে হবে আগামী দিনের রাজনীতিতে।

তাছাড়া উপ-নির্বাচনে যদি অংশ নেবেই, বিএনপির উচিত ছিল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার আগে হলেও অন্তত জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা, যাতে ভোটের মাঠে সবাইকে পাশে পাওয়া যায়। তা না করায় দুই জোটের দল বিএনপিকে মাঠে একাই থাকতে হচ্ছে।

বিএনপির এককভাবে উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বিগত উপ-নির্বাচন ও সামনের উপ-নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোটে কোনো আলোচনা হয়নি। এজন্য বিএনপিই দায়ী।

তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপির উচিত ছিল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার আগে জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা। তা না করে তারা মিডিয়ায় বলছেন, জোট তাদের সঙ্গে আছে। তাদের এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ তারা নিজেরা প্রার্থী দেবে, আর আমরা তাদের সঙ্গে মাঠে কাজ করব, সেটা হতে পারে না। সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই মাঠে থাকতাম।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এসব উপ-নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই অংশ নিচ্ছে। কিন্তু এতে অংশ নিয়ে বিএনপিরও যেমন কোনো লাভ হবে না, জনগণেরও কোনো লাভ হবে না। এসবের মাধ্যমে বিএনপি ২-১ আসনে জিতলেও জনগণের কিছু আসে যায় না।

চস/আজহার

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 54 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।