তামিমের ১৫৮, ৩২২ এ থামল বাংলাদেশ

গতকাল বাংলাদেশ দলের জন্য অনুশীলন ছিল ঐচ্ছিক। কিন্তু তামিম ইকবাল ইচ্ছা করেই অনুশীলনে এসেছিলেন। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে আলাদা করেই সময় কাটিয়েছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে যে সমালোচনাটা হচ্ছিল, সেটি হয়তো পোড়াচ্ছিল তাঁকেও। সেই সঙ্গে গত ১৯ মাস ধরে তাঁর ব্যাটে যে সেঞ্চুরির খরা, সেটিও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াতে পারে। ম্যাকেঞ্জির পরামর্শ নিয়েই আজ সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেকে বদলে ফেললেন জাতীয় দলের তারকা। ওয়ানডেতে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের ইতিহাসটি নতুন করে লিখে সমালোচনার জবাবটা দিয়েছেন তিনি। তাঁর ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের ইনিংসের পরেও শেষের দিকে দ্রুত কিছু উইকেট পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেমেছে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২২ রান তুলে।

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে শেষবার সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তামিম। সে সিরিজে দুর্দান্ত তামিম পেয়েছিলেন দুই সেঞ্চুরি এরপর কেটে গেছে ১৯ মাস। এর মধ্যে গত ২৩ ইনিংসে ৫ ফিফটি পেলেও সেঞ্চুরি দূরের বিষয় হয়েই থাকছিল। উল্টো নিজেকে খোলসের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিপক্ষে। সমালোচকেরা সোচ্চার ছিলেন তাঁর ধীরলয়ের ব্যাটিং আর পাওয়ার প্লেতে হাত খুলে না খেলা নিয়ে। প্রথম ম্যাচেও ৪৩ বল খেলে ২৩ রান করে আউট হয়েছিলেন।

আজ নিজেকে যেন প্রমাণ করতেই নেমেছিলেন তামিম। ব্যাটিং কোচের কথা অনুযায়ী প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাউন্ডারি মারলেন ১০টি। ১১ তম ওভারে ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি পূরণ করেন। এরপর কিছুটা ধীর গতিতে ব্যাটিং করলেও খুব পিছিয়ে ছিলেন না। নব্বইয়ের ঘরে এসে ১৮ বল খেলেই সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। ১০৬ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করে ১৫৮ রানে পৌঁছতে তিনি খেলেছেন মাত্র ৩০ বল। তামিমের ইনিংসে ছিল ২০টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আজ বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল বেশ ভালো। রান উঠছিল বেশ দ্রুতই। তবে ওপেনিং জুটির সমাপ্তি ঘটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। তামিমের শট বোলার মুম্বার পায়ে লেগে ভেঙে দেয় ননস্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প। লিটন দাস ছিলেন দাগের বাইরে। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা লিটন ১৪ বলে ৯ রান করে ফেরেন। এরপর উইকেটে আসা নাজমুল হোসেনও রান আউটের শিকার। এটির জন্য কিছুটা হলেও তামিমকে দায়ী করা চলে। রানটা প্রথমে নাজমুল নিতে চাননি। ওয়েসলি মাধেভেরাকে শর্ট ফাইন লেগে খেলেছিলেন নাজমুল। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে রান নিতে পড়িমরি করে ছুটেছিলেন তামিম। পৌঁছে গিয়েছিলেন অন্যপ্রান্তেও হ্যাঁ-না দ্বিধায় ভুগে নাজমুল শেষ পর্যন্ত তামিমকে বাঁচাতেই নিজের উইকেট উৎসর্গ করেন তিনি।

তামিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ দলকে এগিয়ে নেন অনেকটা পথ। তামিম-মুশফিকের জুটি ছিল ৮৭ রানের। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে আরও ১০৬ রান যোগ করেন তিনি। মুশফিক ৫০ বলে ৫৫ করে ফেরেন। তিনি বাউন্ডারি মেরেছেন ৬টি। মাহমুদউল্লাহ ৫৭ বলে ৪১ করে আউট হন। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৩৪ রানের আরও একটি জুটি গড়েন তামিম। মুশফিককে ফেরান মাধেভারে, মোতুমবোদজির ক্যাচ বানিয়ে। শুমার বলে বাউন্ডারি লাইনে মাধেভারেরই দুরন্ত এক ক্যাচে শেষ হয় মাহমুদউল্লাহর ইনিংস। তামিম আউট হন মুম্বার বলে।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন মিঠুন—১৮ বলে ৩২ রান করে। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাইজুল ইসলাম মিঠুনকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। শেষের দিকের ব্যর্থতাতেই তামিমের দুর্দান্ত ইনিংস আর মুশফিকের ফিফটির পরেও দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ম্যাচের সংগ্রহ ছাড়িয়ে যাওয়ার আক্ষেপটা থেকে যাচ্ছে।

চস/আজহার

শেয়ার করুন

The Post Viewed By: 130 People

Chattogram Somoy

চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত চট্টগ্রাম সময় একটি আধুনিক নিউজ পোর্টাল। ২৪ ঘন্টা খবরের সন্ধানে ছুটে চলা একদল সংবাদদাতা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ এর জুলাইয়ে। কোনো একটা নির্দিষ্ট দিক নয়, চট্টগ্রাম সময় কাজ করছে প্রতিটা দিক নিয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আপনাদের সাথী হিসেবে পেতে চাই।