সাকিবকে বিপদে ফেলা সেই জুয়াড়ি নিষিদ্ধ

130

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বড় ধাক্কাই দিয়েছিল গত বছর ২৯ অক্টোবরের দিনটা। হঠাৎ গুঞ্জন ওঠে নিষিদ্ধ হতে পারেন দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সন্ধ্যা নামতেই সেই গুঞ্জন সত্যিতে রূপ নেয়। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন সাকিব।

সাকিব ফাঁসানোর পেছনে ছিলেন দীপক আগারওয়াল নামের একজন ভারতীয় জুয়াড়ি। বাংলাদেশি তারকাকে বিপদে ফেলা সেই জুয়াড়িকেই এবার দুই বছরের জন্য ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সব কিছুতে নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

অবশ্য এর সঙ্গে সাকিব ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। টি-টেন লিগে আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ধারা ভাঙার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে সিন্ধি ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্ণধার আগারওয়ালকে। ৬ মাসের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি।

২০১৮ সালে টি-টেন ক্রিকেট লিগে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী একটি ধারা ভাঙার অপরাধে এই শাস্তি পেয়েছেন আগারওয়াল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত হতে পারে এমন কোনো দলিল নষ্ট করা বা গোপন করা কিংবা বিকৃত করে তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করা বা তদন্তে দেরি করানো। আগারওয়াল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও শাস্তি মেনে নিয়েছেন।

আইসিসির মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, ‘বেশ কয়েকবার দীপক আগারওয়াল আমাদের তদন্তে বাধা দিয়েছেন। এটা বিচ্ছিন্নভাবে একবার ঘটেনি। তবে আইসিসির দুর্নীতি দমন কোড ভাঙার অভিযোগ মেনে নিয়েছেন তিনি, অভিযোগ ওঠা অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্তে দুর্নীতি দমন ইউনিটকে সাহায্যও করে যাচ্ছেন। তাঁর শাস্তিতে সেটা প্রতিফলিত হয়েছে।’

স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে অনেক আগেই জড়িয়েছে আগারওয়ালের নাম। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কালো তালিকাভুক্ত তিনি। ২০১৩ সালে আইপিএলে ম্যাচ পাতানোর অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা গুরুনাথ মায়াপ্পান। তাঁর সঙ্গে আটক হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা বিন্দু দারা সিং। তাঁরা আটক হওয়ার পর প্রকাশ করেন আগারওয়ালের নাম। জানান, ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আগারওয়ালও।

এরপর ২০১৭ সালে আগারওয়াল ও তাঁর দুই সঙ্গীকে আটক করেছিল ভারতীয় পুলিশ। জেল থেকে বের হয়ে স্পট ফিক্সিংয়ে পুরোপুরি জড়িয়ে যান আগারওয়াল। জেল থেকে বের হয়েই সে বছর টার্গেট করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে।

চস/আজহার