সরকারি কর্মকর্তার অবৈধ ভবন

122
  |  মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০১৯ |  ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ads here

প্রায় দেড় বছর আগে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভবনের পেছনে লাগোয়া পাহাড় কেটে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছিল। সরকারি পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের অভিযোগে সেখানে অভিযান চালিয়েছিল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন (বর্তমানে বদলী)। অভিযানে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের দায়ে ভবনটি ভেঙে দেওয়া হয়। এসময় জব্দ করা হয়েছিল বেশি কিছু ভবন নির্মাণের সরঞ্জামও। অভিযানে স্থানীয় ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সোলতানও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের দেড় বছর পরও অবৈধভাবে নির্মিত ভেঙে দেওয়া ভবনের তদারকি করেননি সংশ্লিষ্টরা। খোদ এক বছরের ভিতরে ভেঙে দেওয়া ভবন আবারও নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। পাহাড় কেটে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ভবন ভেঙে দেওয়ার পরও পুন:রায় নির্মিত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চলছে কানাঘুষা। টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের চুপ করে ফের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক প্রচার রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাহাড় কেটে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ভবনের মালিক হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অডিট কর্মকর্তা বেবী আক্তার। সরকারি কর্মকর্তা হয়েই তিনি পাহাড় কেটে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করেন। এমন অভিযোগে অভিযান চালিয়ে নির্মিত ভবন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও প্রশাসনের অভিযান বা নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই ফের দ্বিতীয় তলা ভবনের কাজ শেষ করেন সরকারি এই কর্মকর্তা। এই নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে নানান ধরণের প্রশ্ন। অভিযানের পরও সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় হয়ত তাকে ছাড় দিয়েছে প্রশাসন; এমনিই প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। পাহাড় কেটে অবৈধভাবে নির্মিত ভবন ভেঙে দেওয়ার পরও আবার কিভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাহাড় কাটার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠা বসতবাড়ির লোকজন।

ads here

স্থানীয়রা জানান, সরকারি পাহাড় কেটে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল দালান নির্মাণ করেছে সরকারি কর্মকর্তা বেবী আক্তার। কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই তিনি পাহাড় কেটে প্রকাশ্যে ভবন নির্মাণ করেছেন। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়ার পরও থেমে থাকেনি বেবী আক্তার। সবখানে ম্যানেজ করে তার অবৈধ ভবনের কাজ চালিয়ে গেছেন। এই নিয়ে প্রশাসনও চুপ রয়েছে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অডিট কর্মকর্তা বেবী আক্তার দেড় বছর আছে ভবন ভেঙে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, খাস জায়গার উপরে দু’তলা বিল্ডিং তৈরি করার সময় অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়ছিল। ভেঙে দেওয়া ভবন আবার কিভাবে নির্মাণ করেছেন জানতে চাইলে বলেন, একটু কাজ করেছি মাত্র। তবে ভবন নির্মানের অনুমতির বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান। সেখানে কোন পাহাড় কাটাও হয়নি বলে দাবী করেন তিনি।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নয়; কারণ আমি যোগদান করার আগেই অভিযান করা হয়েছিল। যদি কেউ আইন অমান্য করে তাহলে এটি বড় অপরাধ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

চস/আজহার

ads here