জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সবুজ ঘাসের ছোঁয়ায়

35
 মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ |  সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১ |  ২:৪৫ অপরাহ্ণ
ads here

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সাড়ে সাত একরের এই ছোট্ট ক্যাম্পাসের ইতিহাসটা অনেক লম্বা হলেও দীর্ঘ পনেরো বছরে এর অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। পুরোনো ভবন আর শিক্ষার্থীদের কিচিরমিচিরে পরিপূর্ণ থাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি। ইট পাথরের দালানের ভিড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা, কলাভবন, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শান্ত চত্বর ও বিজ্ঞান ভবনের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের দেখা পাওয়া গেলেও ক্যাম্পাসটিতে সবুজ ঘাসের দেখা মেলা ভার। ঘাস হতেও যে একটুখানি জায়গার প্রয়োজন সেটুকুও যে নেই ক্যাম্পাসে।

ads here

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দীর্ঘ এক বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। মহামারি আর লকডাউনের প্রথম দিকে ভয়ে কেউ ক্যাম্পাসের আশেপাশে ভুলক্রমেও পা রাখেনি। নীরব নিস্তব্ধ ফাঁকা ক্যাম্পাসে তখন ছিল শুধু সবুজের সমারোহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠ ছাড়া তেমন কোনো বড় ফাঁকা জায়গা নেই ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে। বালুর সেই মাঠটি বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট খেলার জন্য প্রিয় একটি জায়গা ছিল। করোনায় এই ফাঁকা বালুর মাঠেই জন্মেছে সবুজ ঘাস! বিষয়টি আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, সবুজ ঘাসে ভরে গেছে সেই বালুর মাঠটি। ঘাসগুলো যেনো চারপাশের উঁচু দালানগুলোর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। এ সবুজ ঘাসগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া। যেখানে পুরান ঢাকায় দেখা মেলে না ঘাসে সেখানে উঁচু উঁচু ঘাস যেনো সকলের মন কেড়ে নিয়েছে।

সবুজ ঘাসে এই মাঠ যেনো শিক্ষার্থীদের আড্ডা আর ছবি তোলার নতুন এক কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। বিকেল হলেই পোগজ স্কুলের এই মাঠে ভিড় করে শিক্ষার্থীরা। অনেকেই তুলতে আসেন ছবি আর আড্ডায় মেতে উঠে দিনভর। সবুজ ঘাসে ছোঁয়ায় ভেসে গেছে মাঠটি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আইইআর ও স্কুল ভবনের মধ্যে অবস্থিত মাঠটিতে জন্মানো এ সবুজ ঘাসগুলো দেখতে যতোটা না দৃষ্টিনন্দন তার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়ও বটে। সবুজ ঘাসের এই সৌন্দর্যে মন ভরে যায় সকলের। এ যেনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক টুকরো সবুজের ছোঁয়া। সবুজ ঘাসে হাত ছোঁয়াতে কার না ভালো লাগে আর আড্ডা সে তো কথাই নেই। এ সবুজ ঘাসের ছোঁয়ায় সবার মন যেনো রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে। শিশিরের ছোঁয়ায় সবুজ ঘাসগুলো ফিরে পায় স্নিগ্ধতা। যখন হালকা বাতাস এসে মাঠের সবুজ ঘাসগুলোকে হালকা দোলা দেয় তখন অসম্ভব সুন্দর এক দৃশ্য ভেসে উঠে। ঘাসের সবুজ বুকে লেগে আছে যৌবনের রঙ আর শিশিরের মায়াবতী ছোঁয়া। চিরচেনা বালুর মাঠটি এখন বিস্তৃত ঘাসের মাঠ। চোখ জুড়ানো সবুজায়ন। পায়ের স্পর্শেই ঘাসের ছোঁয়া। অনুভূতিটাই অন্যরকম। চারিদিকে শুধু সবুজ ঘাস আর ঘাস। যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিপূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি।

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী কাশফি শরমিতা আড্ডার ফাঁকে বলছিলেন, জগন্নাথে ঘাস সে তো পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য! তার মা বলছিলেন, মেঝ মেয়ের সুবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে এলাম। ঘরবন্দি অবস্থা থেকে অনেকদিন পর বাইরে বের হয়ে খুব ভালো লাগল।

আরেক শিক্ষার্থী শাহানাজ ইসলাম শাওন বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে অনেক দিনপর দেখা। ক্যাম্পাসে এসে সবুজ ঘাসের ছোঁয়ায় আড্ডা আর গল্পে মেতে ছিলাম অনেকটা সময়। মনে হলো কোনো এক সবুজের রাজ্যে প্রবেশ করছি। সবুজ ঘাসের ওপর পা ফেলে মুহূর্ত গুনার আনন্দটা সত্যিই অসাধারণ ছিল।

সবকিছু প্রায় ঠিক ঠাক হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সমাগম বেড়েছে ক্যাম্পাসে। সেই সঙ্গে নুয়ে পড়ছে ঘাসগুলোও। নিস্তেজ হয়ে পড়ছে সজীবতাও। মহামারি করোনার দান সবুজ ঘাসের এ সুন্দর দৃশ্য আবার হারিয়ে যেতে বসেছে। ক্যাম্পাস খুললে হয়তো সবুজ ঘাসের এই দৃশ্যের দেখাই মেলবে না। ক্যাম্পাসে এই সবুজ ঘাসে সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান ও জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থীরা।

চস/আজহার

ads here