হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ

33
  |  রবিবার, মার্চ ২৮, ২০২১ |  ১:০০ অপরাহ্ণ
ads here

বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার মাত্রা শুধু দীর্ঘই হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজে গোটা দল ব্যর্থ, টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা অবস্থার উন্নতি হয়নি। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে কিউইদের বোলিংয়ে উড়ে গেল বাংলাদেশের ব্যাটিং। সফরে আরেকটি হার যোগ হল।

ads here

হ্যামিলটনের সেডন পার্কে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতেও টস হারলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

আর টসে জিতে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই বাংলাদেশি বোলারদের তুলোধোনা করলেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। রবিবার (২৮ মার্চ) হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সকাল ৭টায় প্রথম টি-২০ ম্যাচে ডেভন কনওয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে বাংলাদেশকে ২১১ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় কিউইরা। শেষ ৫ ওভারে ৮১ রান সংগ্রহ করে কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপের জুটি।

তরুণ আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাটে যা একটু লড়াই করল। তারপরেও সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬৬ রানের বড় পরাজয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।

এ বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটম্যানরা। কিউইদের ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৪৪ রানেই থেমে গেছে বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেই টপঅর্ডারের ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর আরও দুটি। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ১৮ বলে ২৭ করলেও লিটন দাশ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদি হাসান কিউই বোলার বিশেষ করে স্পিনার ইশ সোধির সামনে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

শেষদিকে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে ৫৬ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে ব্যবধান কিছুটা কমান আফিফ। লোকি ফার্গুসনের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৩ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন আফিফ। আর ৩৪ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন সাইফউদ্দিন।

কিউই বোলারদের মধ্যে ৪টি উইকেট পান সোধি। ফার্গুসন ২ উইকেট নেন। এছাড়া টিম সাউদি ও হামিশ বেনেট একটি করে উইকেট দখল করেন।

এর আগে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ডে ডেভন কনওয়ের অপরাজিত ঝড়ো ৯২ ও উইল ইয়ংয়ের হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়।

বোলিংয়ে শুরুটা অবশ্য ভালো করেছিল টাইগাররা। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন অভিষিক্ত স্পিনার নাসুম আহমেদ। ওভারের ষষ্ঠ বলে নিউজিল্যান্ড ওপেনার ফিন অ্যালেনকে বোল্ড করেন। পরে আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিলকেও আউট করেন এই বাঁহাতি। নিজের তৃতীয় ও দলীয় সপ্তম ওভারে ২৭ বলে ৩৫ রানে থাকা গাপটিলকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। এই জুটি ৩৮ বলে ৫২ রান করে।

এরপরে আক্রমণ বাড়ায় কিউইরা। ইয়ংকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬০ বলে ১০৫ রান করেন কনওয়ে। ৩০ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৩ করে ইয়ং মেহেদি হাসানের বলে আউট হন। তবে কনওয়ে চতুর্থ উইকেটে গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে আরও ৫২ রান করেন। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি কনওয়ে ৫২ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিল। আর ১০ বলে ২৪ করেন ফিলিপস।

এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলো বাংলাদেশের নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের।

অন্যদিকে এই ম্যাচ দিয়ে নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে ফিন অ্যালেনের। টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক হলেও এই ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হচ্ছে কিউইদের আরেক ব্যাটসম্যান উইল ইয়ংয়ের।

 

 

চস/আজহার

ads here