এমইএস কলেজের গেটে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয় সানি

142
  |  মঙ্গলবার, আগস্ট ২৭, ২০১৯ |  ১২:২৫ অপরাহ্ণ
ads here

ওমরগণি এমইএস কলেজ মোড়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শেখ জাকির হোসেন সানি নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টার দিকে সানির ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। জাকির হোসেন সানি (১৮) সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে সানি সবার ছোট। তারা ঢাকার মিরপুরে থাকেন।

ads here

সানি’র বড় বোন সিআইডি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দীনের স্ত্রী। থাকেন খুলশী আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে। সানি’র আরেক বোন মাহমুদা আক্তার ইন্নি পরিবার নিয়ে থাকেন ময়মনসিংহে।
জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৌরভ (১৯) ও শাফায়েত (২০) নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দুই বন্ধুকে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে এখন কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বলা হবে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্কুল ছাত্র খুনের নেপথ্যে এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বিরোধের জেরের সূত্র রয়েছে। তবে নিহত তরুণ ওই কলেজের ছাত্র ছিল না।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন সানি (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুর আড়াইটার দিকে চমেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান জানান, জনির পিঠে, ডান পায়ের উরুতে এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের একাংশের দাবি, ঢাকায় যাওয়ার আগে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য জিইসি মোড় এলাকায় আসছিল সানি। কলে

গেটের সামনে একা পেয়ে ২০-৩০ যুবক তাকে ঘিরে ধরে। কয়েক জন যুবক তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আনিস নামে এক যুবক তাকে ধরে রাখে। এসময় পেছন থেকে আরেক যুবক কোমর থেকে ছুরি বের করে সানির পা ও উরুতে উপর্যুপরি আঘাত করে। সিসি ক্যামরার ভিডিওতে ছুরিকাঘাত করা যুবকের নাম আইয়াত করে দাবি ছাত্রলীগের ওয়াসিম গ্রুপের।

জানা যায়, সানি রাজধানী ঢাকার মিরপুর মডেল স্কুলের স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়তো। কোরবানির ঈদের ছুটিতে মায়ের সঙ্গে চট্টগ্রামে বোনের বাসায় বেড়াতে আসে। ইতিপূর্বে নিহত সানি তার বোনের বাসায় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল চট্টগ্রামে। গত বছর ঢাকায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সানি চট্টগ্রামে পড়াশোনা করার সময় এমইএস কলেজের আশপাশের এলাকায় কয়েক জন বন্ধু ছিল সানির। বিকেল ৫টায় ঢাকায় ফেরার আগে দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল সানি।

সানির মা সাজেদা বেগম বলেন, সোমবার বিকেল ৫ টায় সানির ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে দুপুর ১২ দিকে সৌরভ নামে একজনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সানি। ঘটনার জন্য তিনি রবিউল, তার বোন ও সাফায়েত নামের তিনজনকে দায়ী করেছেন।

সানির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে ছুটে যান ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারীদের দাবি, সানি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করত। সে ওয়াসিম গ্রুপের কর্মী ছিল বলে দাবি করেন ওয়াসিম গ্রুপের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী জানায়, রবিবার এমইএস কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারি হয়। সেখানে সানিও ছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষরা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। এজন্য কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চু’র অনুসারীদের দায়ী করেছে প্রতিপক্ষ ওয়াসিমের অনুসারীরা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক এক নেতা বলেন, গত রবিবার ওয়াসিম ও বাচ্চু গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জের ধরে কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়াও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আগের দিনের মারামারি ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে সানির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এদিকে আজ (২৭ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে এমইএস কলেজ গেট থেকে খুলশী, জিইসি মোড়, কলেজ মোড়ে ছাত্রলীগের মিছিল দেখা গেছে। এ সময় তাদের স্লোগন ছিলো “সানি হত্যার বিচার চাই”।

চস/আজহার

ads here