এবার পরীমণি জানালেন ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম

54
  |  রবিবার, জুন ১৩, ২০২১ |  ১১:৪২ অপরাহ্ণ
ads here

ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় এবার পরীমণি জানালেন তাকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম। জানান, তার ওপর সেদিন রাতে নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছেন নাসির ইউ মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি।

ads here

পরী আরও জানান, এই ঘটনাটি ঘটে চারদিন আগে ঢাকার বোট ক্লাবে। এই ক্লাবের একজন পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ। তিনি উত্তরা ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্টও ছিলেন। পরীর ভাষ্যে বেশ ক’বার ‘উত্তরা বোট ক্লাব’ শব্দটি আসে। যদিও এই নামে ঢাকায় কোনও ক্লাব নেই। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি উত্তরা ক্লাব ও ঢাকা বোট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

নিজ বাসায় বসে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন পরী। বলেন, একটি সিনেমার মিটিংয়ের কথা বলে সেদিন রাতে বোট ক্লাবে তাকে নিয়ে যায় অমি নামে তার এক পরিচিতজন।

পরী বলেন, ‘বেশ ক’দিন ধরেই এই বৈঠকের কথা চলছিলো। কিন্তু আমি আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। পরে অমির অনুরোধে সেদিন রাতে আমি বৈঠকে যাই। যাওয়ার পর যা ঘটেছে সেটা আর বলে বোঝাতে পারবো না।’

পরী জানান, সেদিন রাতে তাকে পানীয়র সঙ্গে কিছু একটা খাওয়ানো হয়েছিল। কারণ, সারাক্ষণ তিনি প্রচণ্ড অস্থির আর অস্বস্তি ফিল করছিলেন। এরমধ্যে তাকে করতে হয়েছে বাঁচার যুদ্ধ। সেখান থেকে সেদিন রাতে বেরিয়েই পরী যান বনানী থানায়।

পরীর জানান, থানাতে তার অভিযোগ শুনলেও সাধারণ ডায়েরি করেনি কর্তব্যরত অফিসার।

এর আগে রবিবার (১৩ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট করেন পরীমণি। বিচার চেয়ে আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী বরাবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

এরপর তিনি নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন। বলেন, ‘এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনার বিস্তারিত জেনে, চুপ হয়ে যায়! আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে- এই গেলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুনি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারি করতে চলেছি হয়তো। আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনও অন্যায় মেনে নিতে! আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। কখনও মনে হয়নি আমার মাকে খুব দরকার। আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাঁচতে চাই।’

চস/আজহার

ads here