করোনা : ভারতের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি বাংলাদেশে

46
  |  সোমবার, জুলাই ২৬, ২০২১ |  ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ফাইল ফটো
ads here

বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে করোনায় এরমধ্যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৯ হাজার।

ads here

আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মার্চের পর দেশে মৃত্যুর হার বাড়ছে। জুন মাস থেকে অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ২৬ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ১.৩৪ শতাংশ। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ লাখ ২০ হাজার ৫৫১ জন।
মোট মৃত্যুর হিসাবে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ওপরে থাকলেও দেখা যাচ্ছে করোনা আক্রান্ত প্রতি ১০০ জনে ভারতের চেয়ে বেশি রোগী মারা যাচ্ছে বাংলাদেশে।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে ভারতেও। তবে দেশটির সরকার দাবি করছে, ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে সংক্রমণ কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
ভারতে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয় গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি। পরে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দেশটিতে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম এক দিনে চার লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন শনাক্ত হয় ৪ লাখ ১ হাজার ৯৯৩ জন।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ মে ভারতে একদিনে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৩ জন করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হন। এটিই দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
আর ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে যেখানে দৈনিক মৃত্যু ১০০’র আশপাশে ছিল, ২৩ মে তা ৫ হাজার ১৫ জনে পৌঁছায়। ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে বিপুল প্রাণহানি হয়েছে এর জন্য দায়ী মূলত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। বাংলাদেশেও এখন আক্রান্তদের মধ্যে এ ভ্যারিয়েন্টই বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশের অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, এ বছরের এপ্রিলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর মে মাসে তা কমে আসে বেশ খানিকটা। সে সময় দৈনিক সংক্রমণ ৫০০-এর নিচেও নেমেছিল। তবে সেটা স্থায়ী হয়েছিল না। কয়েকদিন পর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে এবং তা এখনও চলছে। চলতি মাসের শুর থেকে দেশে লকডাউন চললেও এখনও তার ফল কার্যত দেখা যাচ্ছে না।
১২ জুলাই দেশে একদিনে ১৩ হাজার ৭৬৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এটিই এখন পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
আর মৃত্যুর হিসাবে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১০ জনের আশপাশে ছিল দৈনিক মৃত্যু, জুলাইয়ের ৭ তারিখে প্রথমবারের মতো তা ২০০ ছাড়ায়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ দিন একদিনে ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ১৯ জুলাই ২৩১ জনের।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের কেন্দ্র ছিল ঢাকা। তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এবার মূলত সারা দেশেই মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গার মতো জেলাতেও প্রতিদিনই প্রায় ১০ জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন। এছাড়া খুলনা, রাজশাহীতে ও ময়মনসিংহ মেডিকেলেও প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ১০ জন, ১৫ বা তারও বেশি রোগী।
সরকারি হিসাবের এ সংখ্যার পাশাপাশি আরও মানুষ মারা যাচ্ছেন উপসর্গ নিয়ে। উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হচ্ছে তারাও যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে দেশের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি।
দক্ষিণ এশিয়ার মৃত্যুর হারে বাংলাদেশের ওপরে আছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এখন মৃত্যুর হাতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

চস/আজহার

ads here