মোবাইলে আড়িপাতা নাগরিক অধিকার পরিপন্থী

54
  |  বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৬, ২০২১ |  ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ads here

মোবাইলে আড়িপাতা দেশ বিদেশে আশংকাজনক হারে বেড়ে চলছে। মানুষ তার জীবনে নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মুহুর্ত গুলো কখন কার সাথে কী কথা হয়, তা কেউই বলতে পারেনা। মানুষ প্রয়োজনের কারণে আর মানুষের সাথে কথা বলবে সেটায় স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের এ সকল বিষয়কে পুঁজি করে তার মান সম্মান ইজ্জত ধ্বংস করারা উদ্দেশ্য মোবাইলকে হ্যাক করে কথোপকথন ফাঁস করা পৃথিবীর সংবিধান পরিপন্থী। শিষ্টাচার বহির্ভূত একটি কাজ। তথ্য প্রযুক্তিতে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক। কিন্তু এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের গোপনীয় বিষয় আড়িপাতার মাধ্যমে ফাঁস করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায়না। সে যেই হউক না কেনো, সরকার হউক বা অন্য যোকেনো সংস্থা আইন শৃংখলা বাহিনী যারাই এ কাজ করে থাকুক, মোটেও ভালো কথা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একটি কু-চক্রী গোষ্ঠী অজান্তে গোপনে সতর্কভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ব্যবসায়ী, মানবাধিকার কর্মী,সাংবাদিক, আমলা-মন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের মোবাইল হ্যাক করে গোপনভাবে তাদের বক্তব্য ধারণ করে রাখছে।

ads here

পরবর্তীতে প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় টেনে এনে ব্যক্তির মোবাইল আলাপচারিতা ফাঁস করছে, রাষ্ট্রীয় , মোবাইল কোম্পানী এসব বিষয় জানার কথা। কিন্তু কারা করছে সে বিষয় স্পষ্ট নয়। তাদের যখন প্রয়োজন হয় তখন ঐ মানুষ গুলোর মোবাইল বক্তব্য ফাঁস করে। সরকার বা আইন শৃংখলা বাহিনী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী অথবা রাষ্ট্রের বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজনে কোনো মোবাইল নাম্বার আড়ি পেতে কোনো তথ্য গ্রহণ করার কোনো নিয়ম থাকলে সেটাও জনগণের তথ্য থাকা দরকার। কাউকে সামাজিকভাবে অপদস্ত করতে অপর মানুষের স্বার্থ ও অধিকার নষ্ট করতে গোপনভাবে আড়িপেতে নাগরিক জীবনে অস্বস্তি তৈরী করা কাম্য নয়।

মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করা কোনো গোষ্ঠীর কাজ হতে পারেনা। সেটা মেনে নিতে পারছিনা। এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের অগোচরে কারা করছে সেটাও বের করতে হবে। কারণ আজকে যারা ক্ষমতায় তারা আগামী দিনে বিরোধী রাজনৈতিক দলে থাকবে। তাদেরও এভাবে মোবাইলে আড়িপাতা হবে। সত্য-মিথ্যা, কথা জনসম্মুখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হবে। তখন তাদের মান ইজ্জত যাবে। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবে। এসব কালচার অবস্থা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে গোটা দেশের জন্য অস্বস্তিকর। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকেই সরে আসা দরকার। পার্শ্ববর্তী দেশে মোবাইলে আড়িপাতা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে হট্টগোল চলছে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে একজন আইনজীবি এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে মামল করেছে। নাগরিক অধিকার, সংবিধান, স্বচ্ছ রাজনীতি, মানবাধিকর সমোন্নত রাখতে মোবাইলে আড়িপাতা বন্ধ করতে হবে।এসবের সাথে যে বা যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

লেখক
মাহমুদুল হক আনসারী
সংগঠক,গবেষক, কলামিষ্ট

 

 

ads here