বান্দরবানে গুলি বিনিময়ে সেনা সদস্য ও জেএসএসের ৩ সন্ত্রাসী নিহত

102
 ডেস্ক রিপোর্ট |  বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২ |  ১২:৩০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে গুলি বিনিময়ে সেনা সদস্য ও জেএসএসের ৩ সন্ত্রাসী নিহত
বান্দরবানের রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী সেপ্রু পাড়ার নিকটে সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় উভয়পক্ষের গুলি বিনিময়ে সেনাবাহিনীর টহল কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান ও তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ads here

সেনাবাহিনীর বান্দরবান ব্রিগেড থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মূল দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি দল রুমা উপজেলার বথিপাড়ায় চাঁদাবাজি করতে আসবে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাইং খিয়াং লেক আর্মি ক্যাম্প থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বথিপাড়ায় যায়। এসময় ওই এলাকার একটি জুম ঘর থেকে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি ছোড়েন। সেনা সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে তিন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় বাকি সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি মাথায় লাগলে টহল কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এসময় ফিরোজ নামে এক সেনা সদস্যের ডান পায়ে গুলি লাগে। আহত সেনা সদস্যকে সকালে রুমা থেকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এসময় ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি এসএমজি, ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি অ্যামোনিশন ম্যাগজিন, তিনটি গাদা বন্দুক, গাদা বন্দুকের পাঁচ রাউন্ড গুলি, চার জোড়া ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ ৫২৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সেনা টহল দল ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

সেনাবাহিনী সূত্রটি আরও জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির অনুচ্ছেদ ঘ এর ধারা অনুযায়ী সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেওয়ার মাধ্যমে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর সব সদস্যের আত্মসমর্পণের শর্ত থাকলেও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস তা ভঙ্গ করে চুক্তি সম্পাদনের পরবর্তী সময় থেকেই সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। যদিও প্রায়ই সন্তু লারমা ও তার দল সরকারের বিরুদ্ধে শান্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ও বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করে থাকেন।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎপর চারটি আঞ্চলিক দল হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি ইত্যাদি দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে পাহাড়ের নিরীহ সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পাশাপাশি সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড সৃষ্টির পায়তারা করছে, যা নিঃসন্দেহে দেশদ্রোহিতার শামিল। এ পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বুকের রক্ত দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

চস/স

ads here