গর্ভবতী স্ত্রীকে নির্যাতনে মৃত সন্তান প্রসব, গ্রেপ্তার স্বামী

111
ads here

যৌতুক না পেয়ে ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সোমবার ওই গৃহবধূ মৃত সন্তান প্রসব করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

ads here

ওই গৃহবধূর স্বামীর নাম জুয়েল মিয়া (২৮। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে। নির্যাতনের শিকার ফাহিমা সুলতানা (২২) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবার বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভাটি চরনওপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় জুয়েলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে সোমবার নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করেন ফাহিমার চাচা শামসুল হক।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারিতে ফাহিমা ও জুয়েলের বিয়ে হয়। তখন জুয়েলকে ব্যবসা করার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিছুদিন পর জুয়েল আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় ফাহিমাকে নির্যাতন করতেন স্বামী। গত রোববার সকালে ফাহিমা সংসারের কাজ করছিলেন। এ সময় জুয়েল ঘরে ডেকে নিয়ে তাঁর কাছে আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জুয়েল একটি স্ক্রু-ড্রাইভার নিয়ে ফাহিমার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত করেন। পরে উঠানে পড়ে থাকা বাঁশের একটি ফালি নিয়ে ফাহিমাকে বেদম মারধর করেন। ফাহিমা অচেতন হয়ে যান। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে জুয়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ফাহিমার বাবার বাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ফাহিমা সুলতানার চাচাতো ভাই মামুন মিয়া রাত নয়টার দিকে জানান, ফাহিমা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। নির্যাতনে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। রাত আটটার দিকে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁকে রক্ত দিতে হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বলেন, তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চস/আজহার

ads here