মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে পাকিস্তানে এক হিন্দু শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন দেশটির এক আদালত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকিস্তানি মুদ্রায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম নতুন লাল, তিনি গভর্মেন্ট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। ২০১৯ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় থেকে তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলে ছিলেন।
মঙ্গলবার ডেইলি পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় নতুন লালের দুই বার করা জামিনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, স্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষক নবীকে অবমাননা করেছেন।
ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন, ফিজিক্সের ওই শিক্ষক ওই দিন স্কুলে আসেন এবং নবীকে অবমাননা করেন। এর পর, জামাত-ই-আহলে সুন্নাত পার্টির একজন নেতা এবং স্থানীয় আলেম মুফতি আবদুল করিম সাইদী ব্লাসফেমি আইনে নতুন লালের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপরই পাকিস্তানের এক আদালত গতকাল মঙ্গলবার ওই শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
এর আগে গত মাসে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামের মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) ও তার স্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ব্যঙ্গচিত্র শেয়ার করা ও নবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেন পাকিস্তানের আদালত।
সে সময় ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আনিকা আতিক (২৬) নামে ওই নারীর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের মার্চ মাসে রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯ জানুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
তথ্যসূত্র: ডন, এনডিটিভি।
চস/আজহার


