spot_img

১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রবিবার
২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মৃত্যু

০

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে একই এলাকায় এক শিশুসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ষোলশহর স্টেশনের ইনচার্জ (আইসি) অসীম ধর বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি রেললাইনের ওপর হাঁটছিলেন। পেছন দিক থেকে ট্রেন আসার সময় তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি ষোলশহর স্টেশনে ভাসমানভাবে থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। হাতের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে তার পরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় এক শিশুসহ দুজনের মৃত্যুর পর নতুন করে এই প্রাণহানির ঘটনায় রেললাইনে চলাচল ও এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চস/স

১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি সরকারকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপকহারে এসব মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি এবং এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে এবং অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। যার ফলে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া তার জন্যও অত্যন্ত কষ্টের।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা এবং আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতিও দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া এবং এর সঙ্গে থাকা অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে একটি বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব শিশু স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে পারছিল না, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। করোনার সময়ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আক্রান্ত শিশুর কাছাকাছি অন্য শিশুরা থাকলে তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই বিছানায় একাধিক শিশু থাকা কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাতায়াতের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু টিকা পেয়েছিল। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন এ বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন করে শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের ক্যাম্পেইন বন্ধ হওয়ার পরের দিন থেকে ঈদুল আজহার পরের দিন পর্যন্ত আরও প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে এরপরও হাম পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। আগের কিছু মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং বাকি ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

তিনি বলেন, আজ থেকে সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্যাম্প এবং প্রত্যেক উপজেলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ইউএনও এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে আগের চেয়েও জোরদারভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটি সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক মা কর্মজীবী হওয়ায় দিনের বেলায় সন্তানকে নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে আসতে পারেন না। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে বন্ধের দিনেও টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, এই টিকাদান কর্মসূচির পরও প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে। ইতোমধ্যে ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের মপআপ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্যও টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

চস/স

জাতিসংঘ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

০

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এদিকে সফরকালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

সফরকালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।

পাঁচ দিনের এই সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

চস/স

আগামী শুক্র ও শনিবার খোলা থাকবে ব্যাংক

০

২০২৭ সালের পবিত্র হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নেওয়ার সুবিধার্থে আগামী শুক্র ও শনিবার সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ-সংক্রান্ত আদেশ সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।

এতে জানানো হয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের পবিত্র হজ নিবন্ধনের অর্থ জমাদানের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্র ও শনিবার হজের অর্থ গ্রহণকারী ব্যাংকের শাখায় স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে।

এ ছাড়া ব্যাংকিং লেনদেনের নির্দিষ্ট সময়ের পর যতক্ষণ পর্যন্ত হজের অর্থ জমা দিতে ইচ্ছুক গ্রহীতা উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের অর্থ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চস/স

টেকনাফে বিজিবি-চোরাকারবারি গোলাগুলি, দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

০

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে বিজিবি ও চোরাকারবারিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১১টায় হ্নীলা সীমান্তবর্তী এইচকে আনোয়ার প্রজেক্ট নামক স্থানে অবস্থান নেন বিজিবির একটি দল। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে চার জন ব্যাক্তি তিনটি বস্তা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করেন। এসময় তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলিতে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিজিবি ৩টি বস্তায় ভর্তি এক লাখ ৪৯ হাজার ‘শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

তিনি আরও বরলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

চস/স

স্ক্র্যাপ লোহা চুরি ও অবৈধ বেচাকেনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হুশিয়ারি

০

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে লোহা পরিবহনকালে সংঘবদ্ধ চুরি, পরিবহন ও অবৈধ বেচাকেনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় সভাপতি হিসেবে এ হুশিয়ারি দেন পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।

সভায় ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, সোনাইছড়ি, সীতাকুণ্ড, কুমিরা, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জসহ বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ রুটে চলন্ত ট্রাক থেকে লোহা চুরির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, “শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বৈধ কাগজপত্র ও উৎস ছাড়া লোহা কেনাবেচা বা মজুদ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

চোরচক্র দমনে পুলিশ যেসব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

তালিকা তৈরি ও অভিযান: পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামি, সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা, পরিবহনকারী ও চোরাই মাল ক্রেতাদের তথ্য হালনাগাদ করে যৌথ অভিযান পরিচালনা।

নজরদারি বৃদ্ধি: চুরিপ্রবণ ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে বিশেষ টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার।

ভাঙারি দোকানে তল্লাশি: ভাঙারি ও স্ক্র্যাপ ব্যবসার লাইসেন্স, খাতা এবং ক্রয়ের উৎস যাচাই করা হবে। চোরাই মাল পাওয়া গেলে দোকান সিলগালাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যৌথ টহল: জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে পুরো চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কাজ করবে।

এছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লোহা পরিবহনে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং ব্যবহার, নিরাপত্তা সিল লকিং, প্রবেশ গেটে সিসিটিভি ক্যামেরা জোরদার এবং নিজস্ব কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উক্ত সভায় ট্রাফিক বিভাগ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জসহ স্টিল মিলস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চস/স

গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা, ৯ লাখ টাকায় আপস পরিবারের

০

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে (২৪) গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামির জামিন বা খালাসে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে আপসের বিষয়টি জানান।

আইনজীবী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় সই করে তারা আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছেন।

আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত মেহেদী বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন না। দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহতের মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাদের দেখাশোনার বিষয়টিও আপসের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে।

আপসনামাটি কোথায় করা হয়েছে জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপস হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পরিবারকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, তাদের কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি। তারা ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেম করাতেও আপত্তি ছিল এবং তারা মামলা করতে চাননি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলা কীভাবে হলো জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, দুর্ঘটনার কারণে পুলিশ মামলা করেছে।

একটি জীবনের মূল্য ৯ লাখ টাকা হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীপক্ষ আপস করতে চেয়েছে। তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসান মীমকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা কিশোর আজান আলী শরীফকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গাড়ির চালকের আসন থেকে তাকে বের হতে দেখা যাওয়ার পর বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এর আগে মামলায় চালকের আসনে থাকা কিশোরের বদলে অন্য একজনকে আসামি করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছিল। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি আব্বাস আলী শরীফের পরিবারের বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চস/স

মায়ানমারে পাচারকালে ২ ট্রাকভর্তি ইউরিয়া সারসহ ২ পাচারকারী আটক

০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মিয়ানমারে পাচারের সময় দুই ট্রাক ভর্তি ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানাধীন বাঁশবাড়িয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানকালে কার্গো বোটে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক থেকে সার স্থানান্তরের সময় দুই পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক এবং প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার কেজি (৬০০ বস্তা) ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত সার, ট্রাক ও আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

চস/স

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক ও অন্যান্য অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো-

প্রথম প্রস্তাব: আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব: রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।

তৃতীয় প্রস্তাব: রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার আতিথেয়তার কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিবেচনায় নিতে হবে।

চতুর্থ প্রস্তাব: টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

পঞ্চম প্রস্তাব: এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৮০-এর দশকেও কয়েক দফায় রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটেছে। তৎকালীন বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে।

তিনি বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। উপরন্তু, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরেকটি প্রজন্ম। রোহিঙ্গা মায়েরা তাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন, তরুণরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে উঠছে এবং প্রবীণরা নিজেদের ফেলে আসা ঘরবাড়ি ও গ্রামের স্মৃতি বুকে নিয়ে নিজভূমে ফিরে যাওয়ার আকুল আকাক্সক্ষা পোষণ করছেন।

মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিবিরগুলোতে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিবিরগুলোতে বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী কোনো আদর্শ স্থান নয়।

দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের মাশুল শুধু রোহিঙ্গাদেরই দিতে হচ্ছে না, কক্সবাজারের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর ওপরও এর তীব্র প্রভাব পড়ছে।

দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ রয়েছে। এমনকি অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে। একটি দেশে অমীমাংসিত থেকে যাওয়া এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন যত বাড়ছে, মানবিক সহায়তার জীবনরেখা ততই সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে; যা দিয়ে কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।

‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না’ উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের পাশে অব্যাহতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান এবং বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কেবল বাংলাদেশই রোহিঙ্গাদের দায়ভার বহন করে যাবে- এমনটাও প্রত্যাশা করা যায় না।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।

রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম এবং নিরাপত্তাহীনতাসহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং ‘আরাকান আর্মি’- উভয়ের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে সেখানে এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন শুধুই সহমর্মিতা না দেখিয়ে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। তারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যেতে পারে- বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। আমরা চাই, তারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক। বাংলাদেশ মানবিকতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে বাংলাদেশ তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে নিশ্চিত করি- রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন নিপীড়ন, বিতাড়ন ও বাস্তুচ্যুতির আরেকটি গল্প হয়ে না থাকে। বরং তা হয়ে উঠুক ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- এই গল্পের সূচনা হোক এখনই।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, গাম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ বি. এস. জ্যালো, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমতা, প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাদজা লাহবিব, সৌদি আরবের রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের সুপারভাইজার জেনারেল আবদুল্লাহ আবদুল আজিজ আল-রাবিয়াহ, যুক্তরাজ্যের আমেরিকা, বহুপক্ষীয় ও মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস এলমোর, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি, ওআইসি’র মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যালিসন হুকার, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব একসিরি পিন্টারুচি, অস্ট্রেলিয়ার প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ডিভিশনের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ক্রেইগ চিটিক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মো. শুহাদা ওসমান।

সহ-আয়োজক ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের মন্ত্রী বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কও, ইউএনএফপিএ’র সহকারী মহাসচিব ড. ক্যাথরিনা বোয়েমে, ওএইচসিএইচআর এর সহকারী মহাসচিব ক্লদিয়া ফুয়েন্তেস জুলিও, আইওএমের উপ-মহাপরিচালক জাস্টিস উগোচি ড্যানিয়েল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

চস/স

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদে স্থানীয়দের বাধা

০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বাধার মুখে পড়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা। বুধবার সকালে উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকার মহাসড়ক সংলগ্ন কেওয়াইসিআর ইন্ডাস্ট্রির পাশে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় সেখানকার প্রায় ৩০০ পরিবারের সদস্যরা উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং উচ্ছেদ স্থগিত করে সময় দেওয়ার দাবি জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। বিকল্প আবাসন নিশ্চিত না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে পরিজন নিয়ে তাঁদের খোলা আকাশের নিচে দাঁড়াতে হবে।

অন্যদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম মেনে নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবসের নোটিশ দেওয়ার পরই এ অভিযান চালানো হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, কুমিরা পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন লাইনের পশ্চিম পাশে অবৈধ টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর গড়ে তোলা হয়েছিল। একাধিকবার বলা হলেও অবৈধ দখল না ছাড়ায় আইন অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

চস/স