spot_img

৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার
১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারেজ

বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সভায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়।

আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ১১ নম্বরে ছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মূলত ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির যে সংকট দেখা দেয়, তা থেকে রেহাই পেতে প্রকল্পটির অনুমোদন করা হয়েছে। কয়েক দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পদ্মা ব্যারেজ নামে প্রকল্পটি অবশেষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো। গত মাসে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। প্রথম ধাপের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন সরকারি তহবিল থেকেই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পানি দিয়ে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এগুলো হলো— হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। ব্যারাজটিতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, মাছ চলাচলের জন্য দুটি ফিশ পাস, একটি নেভিগেশন লক এবং গাইড ও সংযোগ বাঁধ।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফ-টেক এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপের আওতায় ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতি নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখননের কাজও করা হবে। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি স্পিলওয়েসহ গড়াই অফ-টেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফ-টেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফ-টেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে। হিসনা অফ-টেককে হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি গঙ্গা নদীব্যবস্থা থেকে পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পলি জমা কমানো ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, প্রকল্পে কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর ধান উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মৎস্য উৎপাদন প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলায় বিস্তৃত। তবে প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অবহেলিত অন্তত ১৯ জেলা ও ১২০ উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। জেলাগুলো হলো—কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পিরোজপুর। দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।

পদ্মার ওপর ব্যারাজ নির্মাণের ধারণা নতুন নয়। প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরে ২০০৫ সালে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয় এবং স্থানীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের একটি কনসোর্টিয়াম ২০১৩ সালে ওই সমীক্ষা শেষ করে।

চস/স

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ বুধবার ( ১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানা যায়। দপ্তরটি জানায়, হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৬১৫ জন।

বিস্তারিত আসছে…..

চস/স

ইরানে গোপনে একাধিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলার সময় দেশটিতে গোপনে চালিয়েছে সৌদি আরব। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বুধবার (১৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পশ্চিমা দুজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, গত মার্চে সৌদি ইরানে একাধিক গোপন হামলা চালায়। ইরান তাদের ওপর হামলা চালানোর জেরে সৌদি পাল্টা হামলা করে।

এরমাধ্যমে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো ইরানের মাটিতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে সৌদি ইরানের কোন কোন স্থাপনা টার্গেট করেছে সেটি স্পষ্ট হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

পশ্চিমা অপর এক কর্মকর্তা বলেছেন, মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরব হুমকি দেয় তারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে। সৌদির এ হুমকি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় পরবর্তীতে উত্তেজনা কমে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ইরানের সঙ্গে সৌদির এর এক সপ্তাহ আগেই উত্তেজনা কমে যায় বলে নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ইরান ও সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু দুই দেশের কেউ এতে সাড়া দেয়নি। সূত্র: রয়টার্স

চস/স

এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০

গত এপ্রিলে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং ১২৭৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত এবং ১২৬৮ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন।

বুধবার (১৩ মে) গণমাধ্যমে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পাঠানো দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটি জানিয়েছে, গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এ তথ্য পেয়েছে তাদের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরও বেশি হতে পারে।

এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে; এই বিভাগে ১৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৬৪ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংঘটিত মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১.৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

চস/স

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় ওয়াশিংটন থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান তিনি।

পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই চীন সফরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন , একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো একটি বিরল ঘটনা।

কাম্পবেলের মতে, এই সফরটি প্রমাণ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে এবং বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়েও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বাতিল না হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনা দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্পের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা বেইজিংয়ের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিন দিনের এই সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

সূত্র: এপি নিউজ

চট্টগ্রামে যুবকের মরদেহ ঝুলছিল ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে, যা বলছে পুলিশ

চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকায় ফ্লাইওভারের রেলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিএসআরএম ডিপোসংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম কাউসার আহমেদ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একে পরিকল্পিত হত্যা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ঘটনা বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশ এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে।

পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

পাহাড়তলী থানা-পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনের খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি কাউসার আহমেদ আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি শোকবার্তায় তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

চস/স

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাইহি রাজিউন)। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজে অংশ না নিয়ে তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেলকে আসনটি ছেড়ে দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই বছরের আগস্ট মাসে তিনি ধাপে ধাপে সব মামলায় আদালত থেকে জামিন পান। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি কারামুক্তি পান।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বলেন, বাবার জানাজা চট্টগ্রাম শহরে হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

চস/স

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, নিন্দা জানাল ঢাকা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং একই জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম।

বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে নাবাতিয়েহর জেবদিন এলাকার একটি আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে, লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছে। দূতাবাস নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ রাখছে।

এছাড়া, এই অঞ্চলে চলমান সহিংসতা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করছে এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানায়।

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দিপালী বেগম নামে এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিহত হন।

চস/স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিল নয়, সমঝোতায় যেতে চায় সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, বরং তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশের মাধ্যমে তা বাতিলের সুযোগ থাকলেও সরকার আপাতত সেই পথে যাচ্ছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সরকার চুক্তির প্রভাব, স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করবে।

তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সরকার এমন কিছু ধারা শনাক্ত করতে চায়, যেগুলো দেশের স্বার্থের পরিপন্থি বা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রকৃতি এক নয়। কিছু চুক্তি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা কখনো কখনো বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ কাঠামোর চুক্তি তুলনামূলক সহজে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে এমন অতীতের সব চুক্তি বা সমঝোতা মূল্যায়নের আওতায় আনবে সরকার। তবে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চস/স

ফটিকছড়িতে বিষধর সাপের কামড়ে ২ বছরের শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় সাপের কামড়ে আয়াত নামের দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রাতে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের তৈয়বিয়া পাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে শিশু আয়াত তার মায়ের সাথে বাড়ির আঙিনায় থাকা চাপাকলে পানি আনতে যায়। সেখানে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ শিশুটিকে কামড় দেয়।

আয়াতের কান্নায় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। পরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।

চস/স