spot_img

১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার
২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র কারখানা, হাটহাজারীতে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ওয়ার্কশপের আড়ালে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে মির্জাপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন এবং মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কবির।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থলে অস্ত্র তৈরির সময় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিএনজি অটোরিক্সার ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দেশীয় পেনগানসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অস্ত্রগুলো কোথায় সরবরাহ করা হতো, কারা এই অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চলছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত করেছে পুলিশ।

চস/স

লোডশেডিং কমবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই: তথ্য উপদেষ্টা

সারাদেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘লোডশেডিং নিয়ে একটা বিস্তারিত ডেটা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। লোডশেডিং নিয়ে এটুকু বলি, জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি বড় শহরে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে এই জন্য না যে এখানে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে, এটা এই জন্য যে বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু যেহেতু এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের আমি সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটাটা নিয়ে আমি কাজ করছি। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে।’

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।’

চস/স

নেপালে এক বাড়ি থেকেই ২৪ মরদেহ উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর বিদুরে একটি বাড়ি থেকে ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, বাড়িটিতে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে। বন্যার সময় বাড়িটির ভেতরে আটকা পড়েন এসব মানুষ। পরে বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদার নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাড়িটি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। বিদুরের পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি জানান, মঙ্গলবার ওই বাড়িতে আবারও উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তার ধারণা, সেখানে আরও মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তমঙ্গ জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি শিশুর। বাকি ২৩ জনই প্রাপ্তবয়স্ক।

উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে ছয়টি হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। অন্য মরদেহগুলো আপাতত শহরেই রাখা হয়েছে। সেগুলোও পরে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

একটি বাড়ি থেকেই এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের অন্যান্য বাড়িতেও মরদেহ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ওই এলাকায় আরও উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।

গত বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা ৯৫০ ছাড়িয়ে গেছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

চস/স

নতুন পে-স্কেলে পেনশনারদের কতটা সুবিধা বাড়বে

সরকারি চাকরিজীবীদের প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল অনুমোদন পেয়েছে। নতুন এই স্কেলে কর্মরত ২৪ লাখ চাকরিজীবীর মূল বেতন শতভাগ বা তার চেয়েও বেশি বাড়ছে। তাদের সঙ্গে সুবিধা বাড়ছে ৯ লাখ পেনশনভোগীরও।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে। আর ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন বাড়ছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধাগুলো চার ধাপে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে।

এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের কোষাগার থেকে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে।

পেনশনারদের জন্য যে সুবিধা

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করতে চায়। সামরিক ও বেসামরিক—উভয় খাতের চাকরিজীবীদের জন্যই একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

তবে এই ব্যবস্থা একবারে বাস্তবায়ন করতে সরকারের বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। এ ছাড়া ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্তও সরকারের কাছে নেই। এ কারণে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটি এখনই পুরোপুরি কার্যকর না করে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে স্ল্যাব বা স্তরভিত্তিক পদ্ধতিতে পেনশনভোগীদের পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। যাদের মাসিক পেনশন ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের বাড়বে ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যারা পেনশন পান, তাদের বাড়বে ৬৫ শতাংশ; ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং যাদের পেনশন ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি, তাদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ হারে।

চস/স

রংপুরে চার খুন: গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য জানান। তিনি জানান, রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে। তার ফলাফল পাওয়া যায় সোমবার দুপুরে। এই ফলাফলে আসামিদের ইউরিনে কোন মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

উপপুলিশ কমিশনার আরও জানান, ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে মামলার তদন্ত কাজ চলমান থাকবে।

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করেন। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করার পর আসামিদের নমুনা সংগ্রহের জন্য কারাগারে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের টেকনোলজিস্টদের কারাগারে নিয়ে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় পরদিন দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

চস/স

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৪ জন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৩ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৯৪ জনসহ ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৩১২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন।

চস/স

সিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি জাহেদ’কে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর মধ্যে এক নম্বরে থাকা জাহেদুল ইসলাম (৩৫) ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় পথরোধ করে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার একটি সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন জাহেদ। এ সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তাকে ঘিরে ধরে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিএমপির তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরুতে জননিরাপত্তার স্বার্থে নগরীতে প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর তালিকার ১ নম্বরে ছিলেন এই ‘পিচ্চি জাহেদ’। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় এলাকায় সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে ১০৪টি ইয়াবা ও ১৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। এর কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। মাদক ও অস্ত্রের কারবার, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা অপরাধী গ্রুপের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

চস/স

সন্দ্বীপে যৌথ অভিযানে ইয়াবা-অস্ত্রসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপউপজেলা সন্দ্বীপে কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ৪৪৫ পিস ইয়াবা এবং দেশীয় অস্ত্রসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার আকবর হাট এলাকার একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন সন্দ্বীপ, আউটপোস্ট সারিকাইত এবং স্থানীয় থানা-পুলিশের একটি যৌথ দল আকবর হাট এলাকার এক সন্দেহভাজন বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে বাড়িটি থেকে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৪৪৫ পিস ইয়াবা, দুটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র, এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ, এক রাউন্ড রাবার বুলেট, একটি রকেট সিগন্যাল এবং একটি রকেট প্যারাসুট ফ্লেয়ার উদ্ধার করা হয়।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কোস্ট গার্ডের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চস/স

জিইসি মোড়ের আল-হেলাল রেস্টুরেন্টকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রামের ব্যস্ততম জিইসি মোড়ের আল-হেলাল হোটেল এণ্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা’র নেতৃত্বে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে রেস্তোরাঁটির রান্নাঘরে মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিবেশের চরম রূপ দেখা যায়। পুরো রান্নাঘরজুড়ে ছিল তেলাপোকার অবাধ বিচরণ, আর স্টোর রুমে দেখা মেলে বিড়ালের। এছাড়া খোলা ডাস্টবিন রাখা, ফ্রিজারে রান্না করা ও কাঁচা মাংস একসাথে সংরক্ষণ, স্যাঁতসেঁতে ও ভাঙা ফ্লোর, মেয়াদোত্তীর্ণ ঘি ব্যবহার এবং একই পোড়া তেল বারবার ব্যবহার করে খাবার তৈরির মতো একাধিক নোংরা অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

আইন লঙ্ঘনের এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’-এর ৩৩ ধারা অনুযায়ী তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিদর্শক এবং সিএমপির একটি দল এই অভিযানে সহায়তায় ছিল। জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চস/স

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

মাগুরার আলোচিত আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।

এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট রায়ের দিন পিছিয়ে নতুন করে দিন ধার্য করা হয়েছিল।

এ মামলায় আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

এর আগে, গত ১১ আগস্ট মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন ও আসামির আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট বছর বয়সী আছিয়ার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় মামলার বিচারিক কার্যক্রম। গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১৩ মে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। পরে ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তারা হলেন—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) ও সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠাতে হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।

পরে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য মামলাটি বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

চস/স