আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী অধিকার রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সমতাভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর এ দিনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। জাতিসংঘ ২০২২ সালের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘নারীর সুস্বাস্থ্য ও জাগরণ’।
নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সহযাত্রী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের ফলে নারীর উন্নয়ন আজ সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্র-বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী-বাহিনী, শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নারীরা দেশের জন্য সাফল্য নিয়ে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন মো. আবদুল হামিদ।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর ৫০ বছরে বাংলাদেশের অন্যতম অর্জন হচ্ছে লিঙ্গ-বৈষম্য কমিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ। এরই ধারাবাহিকতায় এদেশের উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে নারীর খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য নারী-পুরুষ সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুঁই কারখানায় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবিতে একটি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে জার্মানির নারীনেত্রী ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের প্রস্তাব করেন। এরপর ১৯১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নারী দিবস পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি পালন করছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং স্মরণিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হবে। টেলিভিশন ও রেডিওতে নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে।
এছাড়া দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ণ, অধিকার- বিষয়ে প্রচার ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দিবসটি উদযাপনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিলসের সুনীতি প্রকল্পের উদ্যোগে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ ৫ নারীকে ‘জয়িতা সম্মাননা’ দেয়া হবে। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জয়িতাদের হাতে সম্মাননা পদক, ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেয়ার কথা রয়েছে।
চস/স


