ইসরায়েলজুড়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে দেশবাসীর কাছে ‘ক্ষমা’ চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ছয় জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নেতানিয়াহু ক্ষমা চান।
গত শনিবার (৩১ আগস্ট) দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করেন ইসরায়েলি সেনারা। তাঁদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক।
গতকাল সোমবার দেশটির প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন হিস্ট্রাড্রট দেশজুড়ে ব্যাপক ধর্মঘট পালন করে। এই ধর্মঘটে তেল আবিবসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
আগের দিন গত রোববার নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। তাঁরা জিম্মিদের মুক্তির জন্য অবিলম্বে চুক্তির দাবি জানান।
জিম্মিদের মুক্তির জন্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল সরকারের ব্যর্থতার জেরে তুমুল বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের কাছে ক্ষমা চাইলেন।
গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি না হলে আরও জিম্মির লাশ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে হতে পারে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। সে সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
গত বছরের নভেম্বরে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে বেশ কয়েকজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জীবিত ও মৃত অবস্থায় বেশ কিছু জিম্মিকে উদ্ধার করেন ইসরায়েলি সেনারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, গাজায় হামাসের হাতে এখনো ৯৭ জিম্মি আছেন। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জন জিম্মির।
স্বজনদের বিশ্বাস, এখনো যাঁরা জিম্মি আছেন, তাঁদের মুক্ত করতে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জিম্মিদের নিরাপদে ইসরায়েলে ফেরাতে ব্যর্থতার জন্য নিজ দেশে ব্যাপক চাপের মধ্যে আছেন নেতানিয়াহু। তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে বৈঠক ডেকেছেন। রোববার বাইডেন বলেন, চুক্তির বিষয়ে তিনি এখনো আশাবাদী।
চস/স


