spot_img

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

৭৫ দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র

‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার আশঙ্কায় থাকা আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় বাংলাদেশও আছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এ সংক্রান্ত একটি মেমো পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। এতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসী ভিসার স্ক্রিনিং ও যাচাই প্রক্রিয়াও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সোমালিয়া, রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিশর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেনসহ আরও বহু দেশ রয়েছে।

আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে এবং পররাষ্ট্র দফতর অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন শেষ না করা পর্যন্ত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কেবলে তথাকথিত ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের আওতায় নতুন ও বিস্তৃত স্ক্রিনিং নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই নির্দেশনায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে বলা হয়েছে, যাদের ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, বয়স, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক অবস্থা এবং এমনকি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে–এমন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হবে।

এছাড়া বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারীদের পাশাপাশি অতীতে কোনো সরকারি নগদ সহায়তা নিয়েছেন বা কোনো প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত ছিলেন– এমন ব্যক্তিদেরও ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার সুযোগ নিয়ে যারা ভবিষ্যতে পাবলিক চার্জে পরিণত হতে পারে, তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা পররাষ্ট্র দফতর ব্যবহার করবে।

তিনি আরও বলেন, কল্যাণমূলক সুবিধা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণ করতে পারে এমন বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে অভিবাসন প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ৭৫টি দেশের অভিবাসন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।

বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২২ সালে কার্যকর থাকা ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির একটি সংস্করণে বিবেচনাধীন সরকারি সুবিধার পরিসর সীমিত করা হয়েছিল। সে সময় মূলত নগদ সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর বাইরে সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), নারী, শিশু ও নবজাতকদের জন্য ফেডারেল পুষ্টি কর্মসূচি ডব্লিউআইসি, মেডিকেইড বা আবাসন ভাউচারের মতো সুবিধাগুলোকে পাবলিক চার্জের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।

অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট) দীর্ঘদিন ধরেই কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার আশঙ্কায় আবেদনকারীদের অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা দিয়ে আসছে। তবে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে আরও বিস্তৃত সরকারি সুবিধাকে এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করেন।

এই সম্প্রসারিত নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং এর কিছু অংশ শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়। পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন ওই সম্প্রসারিত নীতি বাতিল করে দেয়।

যেসব দেশের জন্য স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য

আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোট দিভোয়ার, কিউবা, কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক ও জ্যামাইকা।

এছাড়াও আছে জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন। সূত্র: ফক্স নিউজ

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss