প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সদ্য শপথ নেয়া মন্ত্রীরা এতে অংশ নেন এবং সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে দলটির মহাসচিব ও সংসদীয় দলের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ মহল থেকে তিনজন টেকনোক্র্যাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নীতি নির্ধারণে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বও নিজের কাছে রেখেছেন।
বৈঠকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
চস/স


