মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র (ফ্লোরিডা) সফরের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অভিমত, মশা নিধন শেখার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন নেই; দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে অবস্থান করলেই এর উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই সফর অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল সোমবার (১ জুন) রাত থেকেই ডা. শাহাদাতের যুক্তরাষ্ট্র গমনের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছেন। নেটিজেনদের পাশাপাশি সাধারণ জনগনও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মন্তব্য জানাচ্ছেন।
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর পিনাকী ভট্টাচার্যও এই বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে বক্তব্য দিয়েছেন। চট্টগ্রাম সময়ের পাঠকের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হল।
মশা মারা শিখতে ডা শাহাদাত ফ্লোরিডায় যাচ্ছিলেন না। তারেক রহমান যারা ব্রিফ করছে তারা ভুল বা উদ্দেশ্যমুলক ব্রিফ করছে। পুরাই একটা ডিজাস্টার হইছে।
ডা. শাহাদাতকে ভ্যালেন্ট বায়োসেন্স তাদের ল্যাব আর কারখানা পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানাইছিলো। খরচাপাতি ভ্যালেন্ট বায়োসেন্স নিজেই দিতো। সারা দুনিয়ায় মশক নিধনের পণ্য উৎপাদনে তারা সেরা। আগে এই কোম্পানী নিয়া জাইনা নেই।
তাদের মূল পণ্য VectoBac এটা একটা জৈবিক লার্ভিসাইড মানে মশার ডিম মারার ওষুধ, একটা ব্যাকটেরিয়া Bacillus thuringiensis israelensis, বা Bti থেকে এই ওষুধ তৈরি করা হয়। সাথে তাদের নিজস্ব স্প্রে-পদ্ধতি WALS ওয়াইড এরিয়া লার্ভিসাইড স্প্রে আছে। এটার বিশেষত্ব কী? এটা মশার লার্ভাকে বা ডিমকে এমন সব লুকানো, ছোট ছোট পানির আধারে গিয়ে মারে যেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যখন ফ্লোরিডায় প্রথম স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত জিকা রোগী শনাক্ত হয়, তখন বায়োসেন্সের ওষুধ আর স্প্রে পদ্ধতি VectoBac ও WALS দিয়ে মিয়ামি-ডেড এলাকার এই রোগের সংক্রমণ-চক্র ভাঙতে পেরেছিল আমেরিকা। এই কাজের জন্য ২০১৭ সালে কোম্পানিটি শিকাগো ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পায়।
কেন এই পদ্ধতিটা বিপ্লবাত্মক ছিল?
মশা মারার চিরাচরিত উপায় হলো সন্ধ্যায় গোটা এলাকা “ফগিং” করে প্রাপ্তবয়স্ক মশা মারা। কিন্তু জিকা-বাহী এডিস মশা দিনের বেলায় সক্রিয়। এই সময়ে উপকারি মৌমাছি-প্রজাপতিও সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা ফগিং করলে উপকারি পোকামাকড় মরে যায়। তাই ভ্যালেন্টের কৌশল ছিল প্রাপ্তবয়স্ক মশা না মেরে, লার্ভা অবস্থাতেই নির্দিষ্টভাবে নিশানা করা যাতে উপকারী পোকার ক্ষতি না হয়।
চট্টগ্রামে ডা. শাহাদাত এই কোম্পানির লার্ভিসাইড দিয়ে চট্টগ্রামে লার্ভা মারতেছে। উপকার কেমন হইছে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা ভালো বলতে পারবেন।
ডা. শাহাদাত চাইছে এই কোম্পানি চট্টগ্রামে তাদের ফ্যাক্টরি করুক। তাইলে কর্ম সংস্থানও হইবে, কম দামে মশা মারার টেকনোলজি পাওয়া যাইবে। ভ্যালেন্ট এই প্রস্তাব বিবেচনা করতেছে। আলহামদুলিল্লাহ। এই ফ্যাক্টরি স্থাপনের সাম্ভব্যতা যাচাইয়ের জন্য ভ্যালেন্ট নিজের খরচায় উনাদের ফ্লোরিডায় নিয়া যাইতেছে। ল্যাব আর ফ্যাক্টরি দেখাবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোন খরচা নাই।
ডা. শাহাদাত মশা মারার বিষয়টা বুঝে, সে ডাক্তার। এইটা একটা অতি জটিল টেকনোলজি। তারে আপনি অপছন্দ করতে পারেন কিন্তু তার এই সুদুরপ্রসারি একটা ইতিবাচক চিন্তায় এইভাবে পানি ঢাইল্যা দিতে পারেন না।
উনারে নিয়া এমনভাবে মশকরা করা হইতেছে যেন উনি একটা বিশাল অন্যায় করে ফেলছেন।
তারেক রহমানকে তাইলে কে এইভাবে ব্রিফ করলো সেইটা খুজেন। ডা. শাহাদাত আপনাদের দলেরই লোক। আমার দোস্ত না। আপনারা তো নিজের দলের লোকদেরকেও কুরবানি দিয়ে দিতে একটুও ভাবেন না। প্যাথেটিক।
চস/স


