জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, গত ১৪ মাসে আমি এক কাপ চায়ের টাকাও দুর্নীতি করিনি। সারা বাংলাদেশকে সাক্ষী রেখে বলতে পারব একজন এসেও আমার সামনে বলতে পারবে না কারো পকেট থেকে এক কাপ চায়ের টাকা আমি দুর্নীতি করেছি।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার মিলনায়তনে দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতে ইসলাম কৃর্তক আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম শহীদ। তিনি এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যারা অতীতে কেন্দ্র দখল করেছেন, কেন্দ্র দখল করতে চান বা করতে সহায়তা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে, আমরা আপনাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। সংস্কার ও ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজ গড়তে হলে জোটের নেতৃত্বে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা সরকার গঠন করব।’
আমাদেরকে নানাভাবে বিভাজন করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এনসিপির এ নেতা আরো বলেন, ‘আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ওপর বেইনসাফি করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার নীতি স্পষ্ট আপনি আমার বিরুদ্ধে ভোট দেন আমি আপনার ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা দেব কিন্তু আপনি যদি মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে আসেন, কেন্দ্র দখল করতে আসেন আপনাকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন দিয়ে, পুলিশ দিয়ে, ক্যাডার দিয়ে অর্থ দিয়ে নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছেন আমরা আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়াবই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা যারা ভাবছেন নির্বাচন হচ্ছে ঋণখেলাপি পরিশোধের একটি উপলক্ষ মাত্র নির্বাচনের পরে ব্যাংকের যে ঋণগুলো রয়েছে দেবিদ্বারের উন্নয়নের টাকা মেরে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন আপনাদের হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি—এই জনগণকে নিয়ে এই ভোট চোরদের বিরুদ্ধে আমরা শক্ত অবস্থানে থাকব। আমরা ইনসাফপূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করব।
বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দলমতনির্বিশেষে সবার প্রিয় একজন মানুষ। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি রেখে তিলে তিলে হত্যা করেছে, তবুও তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। হাসিনা তাকে নিয়ে কথায় কথায় বিদ্রুপ-তামাশা করত কিন্তু তিনি কখনো কোনো জবাব দেননি। আমরা তার রাজনৈতিক জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এ রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখব।’
দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় ও উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাও. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক লোকমান হোসাইন, পৌর জামায়াতের আমির মো. ফেরদৌস আহমেদ, এনসিপির উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার।
চস/আজহার


