spot_img

২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে ১০০৮ শিশু নিহত

২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণেই শিশুরা উদ্বেগজনক হারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ৫৩৭ শিশু। আর পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ শিশু।

সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ২৮১ শিশু, আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ শিশু, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ শিশু এবং শহরের সড়কে ৭২ শিশু নিহত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী নিহত শিশুর সংখ্যা ১৭৯ জন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৮২ জন এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৪৭ জন।

শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ না হওয়া, সড়ক ব্যবহারে শিশুদের সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না থাকা, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দ্বারা যানবাহন চালানো, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।

সুপারিশে বলা হয়েছে, সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে শিশুদের সচেতন করতে হবে। অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সুযোগ ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় শিশু নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। পথচারী হিসেবে শিশুরা গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বেশি হতাহত হচ্ছে। কারণ গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। অনেক ক্ষেত্রে ঘরের দরজা খুললেই সড়ক– এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। অন্যদিকে শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত নয়। এ অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই শিশুরা নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ প্রতিটি শিশুই অমিত সম্ভাবনাময় এবং আজকের শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss