বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস- অস্কারের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করেছে পল থমাস অ্যান্ডারসন পরিচালিত ডার্ক কমেডি অ্যাকশন থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো এই অনুষ্ঠানে সিনেমাটি আসরের সর্বোচ্চ ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়েছে। সেরা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পল থমাস অ্যান্ডারসন নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেরা পরিচালক ও সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্যের অস্কার জিতে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় মঞ্চে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। সিনেমার অভিনয়শিল্পী তেয়ানা টেলর এবং চেজ ইনফিনিটি আনন্দে মেতে ওঠেন। বিজয়ী বক্তৃতায় পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসন তার বিনয়ী ও কিছুটা রসিক স্বভাবের পরিচয় দেন। ১৯৭৫ সালের কালজয়ী সব সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সে বছর মনোনয়ন পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে কোনটি সেরা তা বলা কঠিন ছিল, কারণ প্রতিটি কাজই ছিল অনন্য।
এছাড়াও তিনি এই বছরের সকল নির্মাতার কাজের প্রশংসা করেন এবং পরিচালক হিসেবে অস্কার জয়ের উত্তেজনায় মঞ্চে অভিনয়শিল্পীদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলে যাওয়ার জন্য মজা করে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
১৩টি মনোনয়ন পাওয়া ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমাটি শুরু থেকেই অস্কারের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন বিপ্লবীর ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন, যিনি একটি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তার নিখুঁত অভিনয় এবং সিনেমাটির শৈল্পিক বুনন দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর আগে এই সিনেমার জন্যই সেরা পার্শ্ব অভিনেতার অস্কার জিতে নিয়েছেন বর্ষীয়ান তারকা শন পেন। এছাড়া বেনিচিও দেল তোরো, রেজিনা হল এবং তরুণ তারকা চেজ ইনফিনিটির অভিনয় সিনেমাটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এবারের আসরে ১৬টি মনোনয়ন নিয়ে ইতিহাস গড়া রায়াইন কুগলারের ‘সিনার্স’ সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেলেও মূল বিভাগে পিছিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে কারিগরি শাখায় জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসে সেরা হয়েছে। অ্যামি ম্যাডিগান ‘উইপনস’ সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন এবং সেরা তথ্যচিত্রের মর্যাদা পেয়েছে ‘মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন’। টানা দ্বিতীয়বারের মতো অস্কার সঞ্চালনা করে দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক কোনান ও’ব্রায়েন।
চস/স


