spot_img

১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বুধবার
২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সর্বশেষ

জ্বালানি সংকটে ফিলিপাইনে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে ফিলিপাইন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। মূলত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাবে গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে কয়েক দফায় জ্বালানির দাম বেড়েছে।

বর্তমানে ফিলিপাইনের বাজারে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই পরিস্থিতিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ‘আসন্ন বিপদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র।

প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী আদেশের ফলে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার বিশেষ আইনি ক্ষমতা লাভ করেছে। এখন থেকে সরকার সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনে মজুত করতে পারবে। এছাড়া জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল বণ্টন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হবে বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

ফিলিপাইনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আর ৪৫ দিন চলা সম্ভব। এই সীমিত মজুত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এই আদেশ আগামী এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির উন্নয়ন বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট যেকোনো সময় এই সময়সীমা পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইনের এই ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে, ফিলিপাইনের এই পদক্ষেপ সেটিই প্রমাণ করে। দেশটির সরকার আশা করছে, এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবে।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss