spot_img

২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সর্বশেষ

সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করতাম: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (৬ এপ্রিল) বলেছেন, তিনি ইরানের তেল ‘দখল’ করতে চান—তবে আমেরিকানরা এই যুদ্ধের অবসান চায় বলেই তিনি তা করছেন না।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বার্ষিক ইস্টার উৎসবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সুযোগ থাকলে আমি সব তেল দখল করতাম, কারণ তা নেওয়ার জন্যই সেখানে আছে। এ নিয়ে তাদের (ইরান) কিছুই করার সাধ্য নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমেরিকানরা চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। আমার ইচ্ছামতো চললে আমি তেল নিতাম, নিজের কাছে রাখতাম এবং তা থেকে প্রচুর অর্থ আয় করতাম। পাশাপাশি আমি ইরানি জনগণেরও এখনকার চেয়ে অনেক ভালো দেখাশোনা করতাম।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের পর থেকে দেশটি থেকে তেল পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলা অভিযানের সাফল্যের কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার বিষয়টি অবিশ্বাস্যভাবে সফল হয়েছে। বর্তমানে হিউস্টনে আমাদের ১০ কোটি ব্যারেল তেল শোধনাগারে রয়েছে। এটি সত্যিই দারুণ একটি ব্যাপার।’

এ সময় যারা এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন না, সেই আমেরিকানদের ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস-এর এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন আমেরিকানের মধ্যে তিনজনই ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের বিরোধী। এছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মনে করেন, এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ষষ্ঠ সপ্তাহে পা রাখা এই যুদ্ধের পরিচালনা নিয়ে নিজের অবস্থান রক্ষা করে ট্রাম্প বলেন, ‘মনে রাখবেন, যুদ্ধ সাধারণত বছরের পর বছর চলে। আমরা সেখানে মাত্র ৩৪ দিন ধরে আছি। এই ৩৪ দিনেই আমরা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দেশকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছি।’

এ সময় তিনি গত মাসে সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন যেখানে দাবি করা হয়েছিল, তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (আমেরিকাকে আবার মহান করো) সমর্থকদের মধ্যে এই অভিযানের প্রতি শতভাগ সমর্থন রয়েছে।

ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি দ্রুত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। তার দেওয়া সর্বশেষ সময়সীমা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার মধ্যে ইরানকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তারা সহজে হার মানতে চায় না। কিন্তু তাদের মানতে হবে। আর যদি না মানে, তবে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না—তাদের আসলে কিছুই থাকবে না। আমি এর বেশি আর কিছু বলব না, কারণ এই দুটির চেয়েও ভয়াবহ আরও কিছু আছে।’

বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমাবর্ষণকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি এ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি জানেন যুদ্ধাপরাধ কী? পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা হলো যুদ্ধাপরাধ। একটি বিকারগ্রস্ত নেতৃত্বাধীন দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেওয়াটাই হলো আসল যুদ্ধাপরাধ।’

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss