spot_img

১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরীর অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবারের এই জলাবদ্ধতায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

প্রবর্তক, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, চান্দগাঁও, জামালখান, এ কে খান, ইস্পাহানি সি গেট ও সাব-এরিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কোথাও বেলা ১১টা থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় পানি নামেনি, আবার কোথাও ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে সরে যায়। ততক্ষণে রাস্তাঘাট, অলিগলি ও দোকানপাট পানিতে ডুবে নগরীর স্বাভাবিক গতি থমকে যায়। অনেক সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ও হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পানি মাড়িয়ে প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালের কালভার্টের ওপর অবস্থান করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। তখনও প্রবর্তক মোড়ের বদনা শাহর মাজারের সামনে গোড়ালি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি ছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমলেও সঠিক সময়ে পানি আবার নিষ্কাশিত হয়ে গেছে। আমি নিজে হেঁটে যে পানির মধ্য দিয়ে এসেছি, সেটি ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গায় পানি ছিল।’ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সরেজমিনে দেখলাম, সন্ধ্যার পর থেকে চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শহর স্বাভাবিক ও সুন্দর আছে, যেমন ছিল, তেমনই আছে।’

 

জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, হিজড়া খাল পুনর্নির্মাণের সময় স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে একটি রিটেইনিং ওয়াল তৈরি করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডের পরিকল্পনা ছিল ১৫ মের মধ্যে কাজ শেষ করে এই ব্যারিকেড সরিয়ে খালটি সচল করার। কিন্তু তার আগেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ‘বর্ষাকালের আগেই এমন অতিবৃষ্টি হবে, এটি কেউ ধারণা করেনি। ফলে দু-এক দিন এলাকাবাসী কিছুটা কষ্ট পেয়েছেন।’ আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্টিল স্ট্রাকচারের ব্যারিকেড অপসারণ করে খালটি পুরোপুরি সচল করা হবে বলে জানান তিনি। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে শুষ্ক মৌসুমে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী খালের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। সাধারণ মানুষ, যাদের বাসা ছিল না, তাদের জীবন আসলেই আক্ষরিক অর্থে পানিতে ভাসছে। চট্টগ্রামজুড়ে গলা পর্যন্ত পানি।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়া নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নগরবাসীর এই দুর্ভোগ নতুন নয়। গত পাঁচ বছরে অন্তত ৪০ বার চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা একইভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss