চট্টগ্রামের সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে আবারও ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
আগামী রোববার থেকে টানা দুই দিন বারৈয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়কে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক ও বাগমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক।
লিখিত বক্তব্যে একরামুল হক বলেন, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর বাসিন্দাদের সবার জন্য সুবিধাজনক স্থানে করা হয়নি। এটি আগের ফটিকছড়ি উপজেলার নিকটবর্তী পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উপজেলার উত্তর অংশের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে না। দাঁতমারা ইউনিয়ন ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।
একরামুল হক জানান, উপজেলার সদর দপ্তরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা আগামী রোববার থেকে হরতাল পালন করবেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহন এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে। দাবি আদায় না হলে হরতালের সময়সীমা বাড়বে।
১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ করা হয় ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন স্থানে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ১৫ কিলোমিটার দূরে উত্তরে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে নতুন উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর থানা কার্যালয়ের পাশে স্থাপনের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়। এ সিদ্ধান্ত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে সদর দপ্তর যৌক্তিক জায়গায় স্থাপন করতে হবে।
একই দাবিতে ১৬ জুলাই হরতাল পালন করেন উপজেলার ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এ কারণে ওই দিন উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়নে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ও ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমীন, বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি এ বি এম সিদ্দিক, ছাত্র প্রতিনিধি শেখ জাহিদ ও মো. ইমাম উদ্দিন।
চস/স


