spot_img

৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার
১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সর্বশেষ

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের ৫৮টি বিমান অভিযান

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন হুথি গোষ্ঠীর সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি শত্রুরা ইয়েমেনে ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে।’

হুথিপন্থি ইয়েমেনি টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনের সা’দা ও মোনাব্বিহ জেলা এবং আল-জাওফ প্রদেশে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। এলাকাগুলো হুথি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। এর জবাবেই সৌদি বিমানবাহিনী এসব অভিযান চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি আরব। হুথিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববারের আগ পর্যন্ত সৌদি বিমানবাহিনী ১৩০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এদিকে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন ও রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সৌদি বিমান অভিযান নিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করেননি।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির বিমান অভিযান এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে থাকা ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাজধানী সানাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্রগুলো এখনো এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়নি।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর আগে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে ক্ষয়ক্ষতি করেছে হুথিরা। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুথিরা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই পথ দিয়েই সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সংঘাত ২০১৪ সাল থেকে চলে আসছে। ওই বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে পরের বছর, ২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়।

হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার, যা কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সূত্র: এএফপি

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss