চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ’জামায়াতপন্থী’ আখ্যা দিয়ে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায় ছাত্রদল। পাশাপাশি ওই বিজ্ঞপ্তিতে ৪ টি দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন। সেই জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ’জামায়াতপন্থী’ প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বাণিজ্যের মহোৎসবে লিপ্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃত কোনো চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে সচল রাখা হয়েছে। গত দেড় বছরে মোট ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া মূলত একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দল ভারী করার নগ্ন মহোৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিশাল নিয়োগ অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের দৃষ্টান্ত হলো — উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (UGC) সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে প্রকাশ্যে অমান্য করে ১৯ ডিসেম্বর উপ-উপাচার্যের কন্যার জন্য নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। ফিন্যান্স বিভাগের ৪টি প্রভাষক পদের বিপরীতে ৫১ জন আবেদন করলেও পরিকল্পিতভাবে বহু যোগ্য প্রার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। এনালগ পদ্ধতিতে ডাকযোগে পরীক্ষার তারিখ জানানোয় অনেক প্রার্থী সময়মতো খবর পাননি, যা উপ-উপাচার্যের কন্যার জন্য প্রতিযোগিতার পথ ইচ্ছাকৃতভাবে সহজ করে দেয়।
এরপর মাত্র ৫০ নম্বরের একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার প্রশ্ন তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরাই প্রস্তুত করেন। এই নিয়োগ বোর্ডের অন্যতম সদস্য ছিলেন ফিন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছারুল করিম, যিনি চবির জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিনই ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে কেবল নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কে কত নম্বর পেয়েছে তা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়, যা এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমনকি বিভাগের মেধাতালিকায় ১২তম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও উপ-উপাচার্যের কন্যাকে ১১ জন যোগ্য প্রার্থীকে টপকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল বলছে, জামায়াতপন্থী প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ড ও ছাত্র সংসদের নীরবতা প্রমাণ করে যে, রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে নাকচ করে তারা মূলত ৫ই আগস্ট পূর্ববর্তী সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকেই ভিন্ন লেবাসে পুনঃস্থাপন করতে মরিয়া। এই সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষকে এখনই সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে আগামীর বাংলাদেশ এক ভয়াবহ অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত হবে।
মেধার অবমূল্যায়ন করে এই জামায়াতপন্থী প্রশাসন যদি তাদের আজ্ঞাবহদের অবৈধ নিয়োগ বাতিল না করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
চস/স


