অন্তরীণ বন্দীদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার-এ ওয়ান টু ওয়ান ইন্টারকম টেলিফোন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) দুপুর ১২টায় এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কোলাহলপূর্ণ সাক্ষাৎ কক্ষে বন্দীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে চালু হয়েছে ইন্টারকম টেলিফোন সুবিধা। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলার পুরোনো দৃশ্য বদলে দিতে প্রথমবারের মতো এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
বেসরকারি কারা পরিদর্শক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনের প্রস্তাবে আইজি প্রিজন ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করেছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন (আশ ফাউন্ডেশন)।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বন্দী থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একসঙ্গে অনেক মানুষ কথা বলায় কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পান না, যা মানবিক দিক থেকে কষ্টকর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেট বসানো হচ্ছে। এতে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দীদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে।
বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত অমানবিক। লোহার জালের দুই পাশে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়। চারপাশের প্রচণ্ড শব্দে কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পারেন না। মাসে মাত্র দুইবার ৩০ মিনিটের সুযোগ মিললেও এই শোরগোলের কারণে জরুরি আলাপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।”
তিনি বলেন, “এখন থেকে কারাভোগী ও কারাভোগীর সাথে সাক্ষাৎ প্রত্যাশী স্বজনরা সুবিধাজনক ভাবে কথা বলতে পারবেন।”
এছাড়া সরকারি অনুমোদন ও সহায়তা পেলে তিনি ভবিষ্যতে কারাগারের সাক্ষাৎ ব্যবস্থা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে বন্দীদের খাবারের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন।
চস/স


