এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে। দেশের নয়টি সাধারণ ধারার শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে এইচএসসির বিভিন্ন তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষা নিয়ে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি তারা যে নিরাপত্তার জন্য যারা থাকছেন তাদের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণ থাকে সেই জন্য আমরা এটা নতুন আমরা ইনক্লুড করেছি।
“লাস্ট এক্সাম সম্পর্কে কিছু সোশাল মিডিয়া বিভ্রান্তিকর নিউজ দিয়েছে এবার সেই ব্যাপারে সাইবার আইন হয়েছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর নিউজ যদি কেউ ছড়ায় সাথে সাথে তাদেরকে আইনের কাছে সোপার্দ করতে হবে এবং সেটাকে বিশ্লেষণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কঠিনভাবে নেওয়া হবে; যেন সোশাল মিডিয়াকে মিসইউজ করে পরীক্ষাকে যেন আর বিভ্রান্ত না করতে পারে।”
খাতা পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধন ও যুগোপযোগী করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
“এ আইনের অধীনে ফল খারাপ করা শিক্ষার্থীরা শুধু খাতা পুনর্নিরীক্ষণ নয়, খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাওয়া যাবে।”
পরীক্ষায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না বলেও সতর্ক করেছেন মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এবার আমাদের পরীক্ষায় যে নতুনত্ব এসছে সেটি হলো নয়টি বোর্ডের একক প্রশ্ন যেটা অতীতে ছিল না বাকি দুইটি বোর্ড রয়েছে মাদ্রাসা এবং টেকনিক্যাল বোর্ড আমরা নেক্সট পরীক্ষা থেকে কমন সাবজেক্টগুলো সব একক প্রশ্ন হবে। সেটা নেক্সট।”
পাবলিক পরীক্ষা আইন পুরোপুরি পরিবর্তন করে হয়েছে বলে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এটাকে আমরা পুরোপুরি পরিবর্তন এনেছি সেখানে পানিশমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
“আগে যদি কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হতো তারা শুধু ট্যাবলেশনশিট চেক করতে পারতেন এর বাইরে কিছুই নয়। এবার পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।”
তিনি বলেন, “শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে এটা এবার হবে না।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে মন্ত্রী বলেন, “যেখানে যেই অবস্থা হবে সেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তারা (স্থানীয় প্রশাসন) তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে সিদ্ধান্ত দেবে। যেন পরীক্ষা সুষ্ঠু হয় সে ব্যবস্থাটি লোকাল প্রশাসন করবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে লোকাল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে যে কি করা যায়।
“তবে স্থগিতের ব্যাপারে আমরা উৎসাহিত করছি না। আমাদের এই ধরনের পরিস্থিতি গত এসএসসি পরীক্ষা হয়েছিল এবং সেটাকে মোকাবিলা করেছিল লোকাল প্রশাসন। একটি স্কুল হঠাৎ করে বানে ভেসে গেল তারা অন্য জায়গায় স্থানান্তর করেছে। সেগুলি করেছে তারা স্থানীয়ভাবে এবং এবারও ইনশাল্লাহ স্থানীয়ভাবে এগুলো করা হবে, আশা করি।”
যেকোনো দুর্যোগ পূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি বিষয়ে তিন সেট করে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ সময় ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বিস্তরণ শুরুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আ ন ম এহছানুল হক।
বৃহস্পতিবার এইচএসসির প্রথম দিন হবে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৮ আগস্ট। ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১ অগাস্ট ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, চলতি বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের থেকে ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। ৪ হাজার ৮৮৫টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় বসবেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের থেকে ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। ২ হাজার ৭০৫টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৬১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স, বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৪৭ জন কম। ১ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থী ৬১০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় বসবেন। সূত্র: বিডিনিউজ২৪
চস/স


