spot_img

৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সোমবার
২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট

সর্বশেষ

রংপুরে ৪ হত্যায় গ্রেপ্তার দুই তরুণের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কড়া পাহারায় তাদের আদালতে নেওয়া হয়। এর আগে গতকাল রোববার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, ছাদে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন- মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে তারা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলার্সে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করেন।

আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামিরা কী স্বীকার করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলার কারণেই কি হত্যা করেন- এ বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক বলেন, তদন্তের স্বার্থে এটা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং রিমান্ড চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক বলেন, এটা তদন্তের সাপেক্ষে বলতে পারব। যেহেতু তারা স্বীকার করেছে, এ জন্য রিমান্ড চাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।

এ ঘটনায় গতকাল রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা মোবাইল ফোনে তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পূজা আবার তার বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় রাতে স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।

বাড়িটি তখন অন্ধকার ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার লক ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি দেখেন, জিনিসপত্র এলোমেলো। একইসঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল।

এজাহারে বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্য কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র: এনটিভি

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss