spot_img

৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার
২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সকলে বাংলাদেশি: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ বলে কোনো বিভাজন স্বীকার করা হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান-ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের একমাত্র ও মূল পরিচয়-আমরা সবাই বাংলাদেশি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে আমাকে দীর্ঘদিন বিদেশে লন্ডনে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে আমি সংখ্যাগুরু ধর্মের মানুষ হলেও লন্ডনে সেই পরিচয় আমাকে সংখ্যাগুরু করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় দিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করা যাবে না। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক মানুষের নাগরিক পরিচয়ই শেষ কথা।

মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-কোনো লড়াইয়েই মানুষ ধর্মীয় পরিচয় দেখে রাজপথে নামেনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যখন রাস্তায় আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তখন তাঁকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কেউ তাঁর ধর্ম জানতে চায়নি। রক্ত দেওয়ার সময় যদি কেউ ধর্ম না দেখে, তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় কেন ধর্মীয় বিভাজন থাকবে?

আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের আইন ও সংবিধান সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার দেবে, অন্য নাগরিককেও ঠিক সমান সুযোগ দেবে। ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে কারো নাগরিক অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীর শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও শান্তিময় দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দেশের সকল ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাই। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলে মিলেমিশে কাজ না করলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

সমাবেশে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss