ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) যুদ্ধ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও বাজারে এখনও অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। পরে তা কমে ১১২ দশমিক ৯৮ ডলারে লেনদেন হতে থাকে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলার পর্যন্ত উঠলেও পরে কমে তা ১১০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে।
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ওই প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালির উত্তরে রয়েছে ইরান; আর এই পথ দিয়েই সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় তেল সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোও দ্রুতই ভরে যাচ্ছে। ফলে ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যেই তাদের তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে থাকায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
চস/স


