ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে তিনি আহত হন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মোজতবা খামেনির আহত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আহত হলেও মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের সময় আহত হলেও বর্তমানে তিনি নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় লিখেছেন, তিনি মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার খবর শুনেছেন এবং এ বিষয়ে খোঁজ নিতে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে জানিয়েছেন— ‘আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন’।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে তার আঘাতের ধরন বা অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা হোসেইনি খামেনিকে গত রোববার ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। দেশটির ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে। সর্বশেষ ভোটাভুটিতে তারা মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেন। তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তেহরানে নিজের বাসভবনে এই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাইসহ আরও উচ্চপদস্থ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারাও প্রাণ হারান। এরপর থেকেই মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ভাবা হচ্ছিল।
মোজতবা কখনোই কোনও সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনও নির্বাচনেও অংশ নেননি। কিন্তু তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকার সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার বেশ প্রভাব ছিল। তিনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বাবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা নিজে অবশ্য কখনও এ নিয়ে আলোচনা করেননি।
চস/স


