spot_img

২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বুধবার
৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সর্বশেষ

ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর তার প্রস্তাবিত বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান তার দাবি না মানলে ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানে আক্রমণ চালানোর নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করার জন্য তিনি পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে, যেখানে তারা আমাকে আজ রাতে ইরানে ধ্বংসাত্মক শক্তি না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালি পূর্ণাঙ্গ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে সম্মত হওয়ায়, আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত করতে রাজি হয়েছি।”

এই বার্তাটি মার্কিন ট্রাম্পের দেওয়া আক্রমণের সময়সীমা রাত ৮টার মাত্র দেড় ঘণ্টা আগে মার্কিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে পোস্ট করা হয়।

ট্রাম্পের বার্তার কিছু পরেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরাগচি লিখেছেন, “যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।”

তিনি আরও জানান, “আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।”

বোমা হামলা স্থগিতের জন্য শেষ মুহূর্তে করা আবেদনের জন্য আরাগচিও পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল পৃথক এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনা সফলভাবে চললে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এই দুই সপ্তাহের চেয়ে আরও বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে পাকিস্তান বুধবার ঘোষণা করেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সিদ্ধান্তটি সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিরোধগুলোর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনার জন্য উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভোরে এক্সে দেওয়া পোস্টে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি “গভীর কৃতজ্ঞতা” প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, উভয় পক্ষই “উল্লেখযোগ্য প্রজ্ঞা ও বোঝাপড়া” দেখিয়েছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থেকেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ইসলামাবাদের আলোচনা’ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।

যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখা প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সব বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মতি দেয়নি। তিনি বলেন, “সরাসরি বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।”

এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে থেকে জল্পনা চলছিল, ট্রাম্প হয়তো আক্রমণের সময়সীমা আবারও বাড়াবেন, যেমনটি তিনি গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকবার করেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হুমকিমূলক বার্তা দেওয়ার পর উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটি ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে” তিনি আরও যোগ করেন, এই সময়সীমা বিশ্বের দীর্ঘ এবং জটিল ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ট্রাম্প এর আগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। অনেক আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করেন এ ধরনের পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের শামিল।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও ইরানের ওপর বিজয় দাবি করেন এবং জানান, তেহরান একটি গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

ট্রাম্প লেখেন, “এটি হবে একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি। এটি করার কারণ হলো আমরা ইতোমধ্যে সকল সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অতিক্রম করেছি। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আমরা ইরানের কাছ থেকে একটি ১০ দফার প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা বিশ্বাস করি আলোচনার জন্য এটি একটি কার্যকর ভিত্তি।”

ট্রাম্প জানান, আগামী দুই সপ্তাহ ইরানের সঙ্গে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ব্যয় করা হবে। অতীতের সব মতবিরোধ মিটে গেছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রায় সব বিতর্কিত বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাটি সমাধানের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা একটি সম্মানের বিষয়।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই যুদ্ধ পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তি দিয়েছেন, ইরানকে আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে নির্মূল করতে এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে এই অভিযান প্রয়োজন ছিল।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানকে একটি উসকানিমূলক আক্রমণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ২,০৭৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরও ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss