ইসলামাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সুযোগ এখনও আছে বলে মনে করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি আরও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ পরিত্যাগ করলে তাহলেই দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া সম্ভব।
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেছেন, “যদি মার্কিন সরকার তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব পরিত্যাগ করে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে— তাহলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ বের করা সম্ভব। আমি (ইরানের) প্রতিনিধি দলের সব সদস্যকে, বিশেষ করে আমার প্রিয় ভাই জনাব কালিবাফকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং বলছি ঈশ্বর আপনাদের শক্তি দিন।”
রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর এক্সে এই বার্তা পোস্ট করেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়াও ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়।
কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধের ৩৯তম দিন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক। সূত্র : বিবিসি
চস/স


