spot_img

১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার
২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বশেষ

চিফ প্রসিকিউটরের পদ হারাচ্ছেন তাজুল ইসলাম

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্রায় দেড় বছর এ পদে রয়েছেন তিনি। তবে তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগের কথা ভাবছে সরকার। এমন একটি গুঞ্জন ছড়াতেই আইনাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলছে জোর আলোচনা।

এরই মধ্যে পরবর্তী চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় এসেছে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় গঠিত আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। যে মামলায় দণ্ডিত হয়েছিলেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপির সরকার গঠনের পর চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন টিমের পরিবর্তন বা রদবদল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আরও জোরালো হয় এ আলোচনা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এই বিদেশি সাংবাদিক লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে এ পদে আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাজুল ইসলামকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। এরপর নতুন করে ঢেলে সাজানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলামের অধীনে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। বর্তমানে এসবের বিচারকাজ চলছে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটির। ঘোষিত রায়ে দণ্ডিত ২৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ পুলিশের প্রধানরাও রয়েছেন। রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ দুটি মামলা। এরই মধ্যে আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা হবে রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপি-মন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তাজুল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আগের গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা না এলেও আমাদের বলা হয়েছে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে কার্যক্রম সেটা স্বাভাবিক গতিতেই চলমান থাকবে। সুতরাং আমরা আশা করছি বিচার বিচারের মতোই চলবে। সরকার আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

চস/স

Latest Posts

spot_imgspot_img

Don't Miss